সিএইচটি নিউজ বাংলা,
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, সোমবার
বৃহত্তর পার্বত্য
চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে শিক্ষা
সংক্রান্ত ৫দফা দাবিসহ ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে বিভিন্ন
শাখার উদ্যোগে আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন জায়গায়
বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
দীঘিনালা : পিসিপি'র দীঘিনালা থানা শাখার উদ্যোগে আজ সোমবার সকাল ১১.০০টার সময়
ইউপিডিএফ এর অফিসের সামনে থেকে শিক্ষা সংক্রান্ত ৫দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য একটি
বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে। মিছিলটি দীঘিনালা ইউপিডিএফ এর অফিস থেকে শুরু হয়ে থানা
বাজার, উপজেলা কাউন্সিল, বাস টার্মিনাল থেকে ঘুরে এসে দীঘিনালা কলেজ গেইট সামনে
চৌমুহনীতে একটি সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিসিপি'র দীঘিনালা
কলেজ শাখার সভাপতি বিজয় চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের দীঘিনালা থানা শাখার
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জীবন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের প্রতিনিধি ডেইজী চাকমা এবং
ইউপিডিএফ এর দীঘিনালা থানা শাখার সংগঠক কিশোর চাকমা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দীঘিনালা থানা শাখার সভাপতি অংকন চাকমা এবং সমাবেশটি
পরিচালনা করেন দীঘিনালা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিউটন চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন,
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা সংক্রান্ত ৫দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
সরকারের কাছ থেকে পিসিপি'র ৫দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও পর্যন্ত
বাস্তবায়নের জন্য কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন।
পানছড়ি : পিসিপি'র পানছড়ি থানা শাখার উদ্যোগে সকাল ১০.৩০টার সময় একই দাবিতে
পানছড়ি কলেজ গেইট এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি পানছড়ি বাজার
অভিমুখে গেলে পুলিশ কর্তৃক কলাবাগানে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং কলাবাগান থেকে ঘুরে এসে
পানছড়ি বাস টার্মিনালে একটি সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পাহড়ি ছাত্র পরিষদ পানছড়ি
থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রূপায়ন চাকমার পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন
গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি থানা শাখার সভাপতি বরুন চাকমা এবং সাধারণ সম্পাদক
বিবর্তন চাকমা এবং সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পানছড়ি থানা শাখার
সভাপতি সুমেধ চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা
অভিযোগ তুলে বলেন সরকার দীর্ঘদিন ধরে সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক
শিক্ষার কথা বলে আসলেও আমরা এখনো সেই সুযোগ পাইনি। অপরদিকে জাতিসত্তাসমুহকে
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙ্গালি বানিয়ে সরকার তার ফ্যাসিস্ট পরিচয়
দিয়েছেন।
মহালছড়ি : একই দাবিতে সকাল ১১.৩০টার সময় পিসিপি'র মহালছড়ি থানা শাখার উদ্যোগে
মহালছড়ি সদর বাবুপাড়া এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি মহালছড়ি
বাজার ঘুরে এসে বাস টার্মিনালে একটি সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পিসিপি'র মহালছড়ি
থানা শাখার সভাপতি রতন স্মৃতি চাকমার সভাপতিত্বে এবং অন্তু চাকমার পরিচালনায়
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহালছড়ি থানা শাখার পিসিপি'র সাধারণ সম্পাদক তপন চাকমা,
গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মহালছড়ি থানা শাখার সভাপতি পলাশ চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা
পিসিপি'র শিক্ষা সংক্রান্ত ৫দফ বাস্তবায়ন না হওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে আগামী
বছর থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের সরকারী ঘোষনাকে ভালো
উদ্যোগ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
কুতুকছড়ি (রাঙামাটি) : পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙামাটির জেলা শাখার
উদ্যোগে দূপুর ১২.০০টার সময় জেলা সদরের কতুকছড়িতে অবস্থিত বড় মহাপূরম উচ্চ
বিদ্যালয় গেইটের সামনে থেকে একই দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হয়। মিছিলটি
কতুকছড়ি বাজার প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধমে শেষ
হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক তাপুমনি চাকমা, রাঙামাটি জেলা
শাখার পিসিপি'র সভাপতি বিলাস চাকমা এবং সমাবেশ পরিচালনা করেন পিসিপি'র সদস্য এডিশন
চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা
হুশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন পিসিপি'র শিক্ষা সংক্রান্ত ৫দফা দ্রুত বাস্তবায়ন করা না
হলে আগামীতে সংগঠনটি কঠোর কর্মসুচি প্রদান করবে। এবং একই সাথে সরকারের দিকে তাকিয়ে
না থেকে নিজনিজ এলাকায় নিজস্ব মাতৃভাষা চর্চা করার জন্য পাহাড়ি ছাত্র সমাজের কাছে
আহবান জানান।
নান্যচর(রাঙামাটি) : একই দাবিতে পাহড়ি ছাত্র পরিষদ নান্যচর থানা
শাখার উদ্যোগে সকাল ১১.০০সময় উপজেলা সদরের বিশ্রামাগার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল
শুরম্ন হয়। মিছিলটি নান্যচর বাজার প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে
বক্তব্য রাখেন নান্যচর থানা শাখার গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি প্রিয়লাল চাকমা
এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নান্যচর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন,
দীর্ঘদিন ধরে পিসিপি শিক্ষা সংক্রান্ত ৫দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছে এবং যতদিন
পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা
নিশ্চিত না হয় ততদিন পর্যন্ত পিসিপি'র আন্দোলন চলবে। উচ্চ শিক্ষায় পাহাড়ি কোটা
চালু না করে কখনো পার্বত্য কোটা কখনো আদিবাসী কোটা চালু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এতে সমতলের আদিবাসী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিসত্তাদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ববোধ
সহমর্মিতা রয়েছে সেটা ভেঙ্গে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা পার্বত্য
চট্টগ্রামের অবস্থানরত বাঙালিদের ও সমতলের আদিবাসীদের কোটা প্রয়োজন হলে তাদের
ক্ষেত্রে আলাদা কোটা ব্যবস্থা বজায় রেখে অতি দ্রুত পাহাড়ি কোটা চালু করার জন্য
সরকারের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য, পিসিপি’র
শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবি হলো, ১.পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতি সত্তার
মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করা, ২.জাতিসত্তার প্রতি
অবমাননাকর যে কোন বক্তব্য পাঠ্যপুস্ত্মক থেকে বাদ দেয়া, ৩.পাহাড়ি জাতিসত্তার সঠিক
ও সংগ্রামী রাজনৈতিক ইতিহাস সম্বলিত পুস্তক পার্বত্য চট্টগ্রামের স্কুল ও কলেজের
পাঠ্যক্রমে অন্ত্মর্ভূক্ত করা, ৪.বাংলাদেশের সকল জাতিসত্তার সংক্ষিপ্ত সঠিক তথ্য
সম্বলিত পরিচিতিমূলক পুস্ত্মক বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা ও ৫.পার্বত্য
কোটা বাতিল করে পাহাড়ি কোটা চালু করা।