কমেন্ট্রি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কমেন্ট্রি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

সাজেকে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্য কি পাহাড়িদের উচ্ছেদ করা?

বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদন:
সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৪, রবিবার

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সেনাবাহিনী। সমানতালে চলছে রাস্তাঘাট উন্নয়ন। একের পর এক সাজেক পরিদর্শনে আসছেন রাষ্ট্রপ্রধানরা। এর উদ্দেশ্য কি নিরীহ পাহাড়িদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা? এ প্রশ্ন এখন সকল সচেতন মহলের।

এ প্রশ্ন উত্থাপিত হবার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কাপ্তাই বাধের ফলে উদ্বাস্তু হওয়া লোকজন নিজেদের জমি-জমা হারিয়ে বসতি গড়েছিল প্রত্যন্ত সাজেক এলাকায়। সেখানে তারা জুমচাষ করে সুখে-শান্তিতে বাসবাস করে আসছিলো দীর্ঘ যুগযুগ ধরে। বাঙালি বসতি ছিল না কোন বাঙালির। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে থেকে শুরু হয় সাজেক থেকে পাহাড়িদের উচ্ছেদের চক্রান্ত। ২০০৮ সালে গঙ্গারাম দোর-এ প্রায় ৩৫ পরিবার সেটলার বাঙালিকে বসতিস্থাপন করে স্থানীয় সেনা কর্তৃপক্ষ। তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য নির্মাণ করা হয় একটি সেনা ছাউনি। এসব বসতিস্থাপন করা সেটলার বাঙালিদের লেলিয়ে দেওয়া হয় পাহাড়িদের দখলীয় জায়গা বেদখলের কাজে। ফলে পাহাড়িদের সুখ-শান্তি উবে যায়। সেনাবাহিনীর সহযোগীতাঅয় সেটলার বাঙালিরা গঙ্গারাম এলাকায় পাহাড়িদের মালিকানাধীন জায়গায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে। এক পর্যায়ে ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় সেটলার বাঙালিরা পাহাড়িদের গ্রামে হামলা চালায়। এ হামলায় পাহাড়িদের ৭টি গ্রামে কমপক্ষে ৭৮টি বাড়ি পুড়ে ছাই করে দেওয়া হয়। একই বছর সেটলার বাঙালিরা লাদুমনি চাকমা নামে এক নিরীহ জুমচাষীকে কুপিয়ে হত্যা করে। কিন্তু হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে একের পর এক চালানো হয় সেনা নির্যাতন। পাহাড়িদের উপর নির্যাতন বর্ণাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়।

শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৩

প্রসঙ্গ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

-অনন্ত মারমা 
[জাতীয় ডাক পত্রিকার ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত এ লেখাটিতে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের করণীয় সম্পর্কে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করা হয়েছে। তাই লেখাটির গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে এখানে হুবহু প্রকাশ করা হলো- সম্পাদকমন্ডলী]
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। দেশে এ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছে। সবার আশঙ্কা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বোঝাপড়া না হলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে। বিএনপির দাবি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ চায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ জন্য পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাজীপুরসহ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলটির ভরাডুবি সরকারের সেদিকে এগোনোর পদক্ষেপে নতুন গতিবেগ দান করেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের সাথে তাল রেখে বিএনপিও একতরফা নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দেশ অনিবার্য সংঘাতের দিকে ধাবমান, যেন দু’টি গ্রহ সুপারসনিক গতিতে পরস্পরের দিকে এগুচ্ছে, তাদের উভয়ের সংঘাতের ফলে মহাপ্রলয় আসন্ন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আসন্ন সংঘাতও যে রাজনৈতিক মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি করবে তাতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। কিন্তু প্রলয় বা ধ্বংসের পর যা সৃষ্টি হবে তা কি দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু হবে? গত বিএনপি শাসনের শেষ দিকের রাজনৈতিক সংঘাত দেশে জরুরী অবস্থা ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এসেছিল। সেই সরকারও দেশের আবর্জনা ও জঞ্জাল সরাতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোন পরিবর্তন হয়নি।

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৩

পর্যটন শিল্প ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি

- প্রসিত খীসা
 
[ এ লেখাটি ইউপিডিএফ-এর মুখপত্র স্বাধিকার বুলেটিনের ১৩তম সংখ্যায় (৩০ জানুয়ারি ২০০০) প্রথম প্রকাশিত হয়। ইতিমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পের অনেক বিকাশ ঘটেছে। দুর্গম সাজেকের রুইলুই ভ্যালীতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী। তাই পর্যটনের ক্ষতিকর দিকসমূহ বুঝার জন্য লেখাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে হুবহু প্রকাশ করা হলো- সম্পাদকমন্ডলী ]

র্যটন-ট্যুরিজম এ ধরনের শব্দগুলো এদেশের সাধারণ লোকের কাছে এখনো যথেষ্ট মোহসৃষ্টিকারী দ্যোতক হয়ে রয়েছে। পর্যটক-ট্যুরিস্ট বলতেই অধিকাংশ লোকের মানসপটে ভেসে উঠে ঝলমলে উজ্জ্বল রঙ্গীন পোশাকে সুশোভিত অথবা নামমাত্র পোশাকে আবৃত সুঠাম দেহী বিদেশী-বিদেশীনীদের ছবি। দেশের লোকজনের পূর্ব আরোপিত এই ধারণার সাথে বর্তমানে যুক্ত হয়েছে বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক ফন্দির প্রচারণা, আরো পরিষ্কার করে বলতে গেল পর্যটনের উপকারিতার গুণকীর্তন। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে দেশের অর্থনীতি শনৈঃ শনৈঃ করে উপরের দিকে উঠতে থাকবে। বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। সহজে ডলার আসবে। দেশে চটজলদি উন্নতি হবে। দ্রুত সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য পর্যটন শিল্পই হচ্ছে শর্টকার্ট রাস্তা। দারিদ্র প্রপীড়িত ঋণগ্রস্থ তৃতীয় বিশ্বের যে সব দেশ পর্যটনকে সমৃদ্ধির মহৌষধ মনে করে লুফে নিয়েছে, তাদেরকে খেসারত দিতে হচ্ছে নানাভাবে।

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৩

পোড়া তাইন্দং: পাহাড় থেকে পাহাড়ি উচ্ছেদের রঙ্গমঞ্চ

 - কল্লোল মোস্তফা

বটতলা বাজার। তাইন্দং ইউনিয়ন। তারিখ ১৭ আগষ্ট ২০১৩। গত ৩ আগষ্ট তাইন্দং এর পাহাড়ী গ্রামগুলোতে কি ঘটেছিল জানতে চাইলে বাজারে উপস্থিত বাঙালিরা মুক্তার আলীকে দেখিয়ে দিয়ে বললেন তিনি ভালো বলতে পারবেন, হয়তো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বলেই। মুক্তার আলী ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। কাকতালীয় ভাবে মুক্তার আলীর  নামটা আমরা পাহাড়িদের কাছেও শুনেছি, অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গে। যাই হোক, মুক্তার আলী বললেন, এর আগে এই এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেনি, পাহাড়ি বাঙালি ‘একই মায়ের পেটের ভাইয়ে’র মতো এখানে একসাথে বসবাস করে আসছে। ঘটনার দিন সকালের দিকে তিনি বাজারে এসে শুনতে পান কামাল হোসেন নামের একজনকে নাকি পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা অপহরণ করেছে, সবাই মিলে তাকে খোজাখুজি চলছে। ক্রসিং নামের একটা জায়গায় অনেকেই জড়ো হয়েছে। এরপর সেখানে গন্ডগোল হয় এবং পরে তিনি জানতে পারেন, পাহাড়িদের কিছু ঘরে আগুণ দেয়া হয়েছে। আগুন কারা দিয়েছে, কেন দিয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০১৩

তাইন্দং সেটলার হামলা: দায়ি কে?

রাজনৈতিক ভাষ্য
সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৭ আগস্ট ২০১৩, বুধবার

৩ আগস্ট মাটিরাঙ্গার তাইন্দং-এ পাহাড়ি গ্রামে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার পর পুলিশ গতকাল পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে। আটককৃতদের মধ্যে অপহরণ নাটকের মধ্যমণি কামাল হোসেনসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুব লীগ, ছাত্র লীগ ও বিএনপি-ভুক্ত যুব দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার তাদেরকে খাগড়াছড়ির আদালতে হাজির করা হলে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।

আমরা হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে আমরা দেখতে চাই এটা যাতে লোকদেখানো ব্যাপার না হয়, ড্যামেজ কন্ট্রোল এক্সারসাইজ না হয়। আমরা চাই যারা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে তাদের বিচারের পাশাপাশি আসল ষড়যন্ত্রকারীদেরও চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হোক। যাতে ভবিষ্যতে যাতে আর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা না ঘটে।

বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৩

রেডিও তেহরানের খবর: চুক্তির ১৬ বছর: পাহাড়ে শান্তি আসেনি; আবারো সহিংসতা, গুলিতে নিহত ১

সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৩ জুলাই ২০১৩, বুধবার

রেডিও তেহরান গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার খবরে পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রচার করেছে। এতে বলা হয় পার্বত্য চুক্তির ১৬ বছর পরও পাহাড়ে শান্তি আসেনি। সংবাদটি তাদের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে।

উক্ত রেডিও সংবাদ প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় জেএসএস এম এন লারমা গ্রুপের নেতা মিঠুন চাকমাকে গুলি করে হত্যা, পানছড়িতে সুপন চাকমা হত্যা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সড়ক ও নৌপথ অবরোধ, তিন এমপির কুশপুত্তলিকা দাহ ইত্যাদি সাম্প্রতিক বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৩

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র কাজ শোষণ করা - ড. শহীদুল আলম

সিএইচটি নিউজ বাংলা, ২৭ জুন ২০১৩, বৃহস্পতিবার
[ দৃকের পরিচালক ড. শহীদুল আলম জার্মান বেতার ডয়চে ভেলের সাথে এক সাক্ষাতকারে কল্পনা চাকমার অপহরণ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। ডিডব্লিউ'র ব্লগওয়াচে প্রকাশিত সাক্ষাতকারভিত্তিক প্রতিবেদনটি কল্পনা চাকমা সম্পর্কিত হওয়ায় গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে হুবহু প্রকাশ করা হলো-সম্পাদক ]

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দৃকের প্রতিষ্ঠাতা ড. শহীদুল আলম৷ গত সপ্তাহে জার্মানি সফরকালে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাকারে তিনি বলেন, 'সেনাবাহিনীর একমাত্র কাজ ‘শোষণ করা’৷

বুধবার, ১২ জুন, ২০১৩

রণাঙ্গনের সারিতে আমরা হবো সৈনিক--কল্পনা চাকমা

সিএইচটি নিউজ বাংলা, ১২ জুন ২০১৩
[ আজ ১২ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৭ বছর পূর্ণ হল। ১৯৯৬ সালের এই দিন রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনার নিজ বাড়ি থেকে কজইছড়ি সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার লে. ফেরদৌস ও তার দোসরদের কর্তৃক কল্পনা চাকমা অপহৃত হন। অপহরণের আজ ১৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও রাষ্ট্র আজো কল্পনা চাকমার কোন সন্ধান দিতে পারেনি। গ্রেফতার করা হয়নি চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস সহ তার দোসরদের।
কল্পনা চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা কর্তৃত্ব-খবরদারি, নিপীড়ন-নির্যাতন ও শোষণ-বঞ্চণার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি সমাজের একটা আমুল পরিবর্তন চেয়েছিলেন। অপহরণের ১৭তম বার্ষিকীতে আমরা কল্পনা চাকমার এই লেখাটি এখানে প্রকাশ করলাম—সম্পাদক]

শ্চাদপদ দেশে এমনকি অগ্রসর পুঁজিবাদী দেশেও নারী পুরুষের অধিকারের ক্ষেত্রে বাস্তবতা অনেক, বৈষম্য আরো বেশি। বিশ্বের নারী সমাজ সুদীর্ঘকাল ধরে যে পুরুষ কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে আসছে, বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছে সে সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশ্বজুড়ে পশ্চাদপদ দেশেও সমাজে নারীদের পারিবারিক সামাজিক নিপীড়ন একই রকম। কিন্তু আমি মনে করি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি মেয়েরা বেশি নির্যাতিত। কেননা, দীর্ঘকাল ধরে চলছে পাহাড়িদের জাতীয় অস্তিত্ব বিলুপ্তি করে দেয়ার ষড়যন্ত্র। এই পার্বত্য অঞ্চলে সবুজ শ্যামল পাহাড়ের অন্তরালে রয়েছে বুকফাটা আর্তনাদ, গগণবিদারী আর্তচিতকার, একদিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দশ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষণের জন্য গণসংগ্রাম এবং অন্যদিকে সেই সংগ্রামকে দমন করার জন্য সামরিক প্রচেষ্টা- পার্বত্য চট্টগ্রামকে পরিণত করেছে এক অগ্নিগর্ভ রণক্ষেত্রে। এখানে উগ্র বারুদ অত্যাচারে জনজীবন হয়েছে দুর্বিসহ। দীর্ঘ নির্যাতন আর যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত পার্বত্য জনতার আজ বেদনার্ত উচ্চারণ “জীবন আমাদের নয়” এই অবস্থা বাংলাদেশের অপরাপর নারী সমাজের চাইতে পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীদের অবস্থা করুণ। এরূপ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে নারীর ভূমিকা পালন অত্যন্ত কঠিন কাজ নিঃসন্দেহে। তারপরেও আমাদের অগ্নি পরীক্ষর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে। রণাঙ্গনের সারিতে, মুক্তির মিছিলে সামিল হতে হবে।

সোমবার, ১০ জুন, ২০১৩

প্র্রথম আলোর সম্পাদকীয়-পার্বত্য চট্টগ্রামে অযৌক্তিক হরতাল

সিএইচটি নিউজ বাংলা, ১০ জুন ২০১৩

[পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধনী ও সেটলার সংগঠনগুলোর ডাকা ৭২ ঘন্টা হরতাল বিষয়ে ‘সংঘাত নয়, সম্প্রীতির হাত প্রসারিত করুন’ শিরোনামে দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলো  আজ একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। সম্পাদকীয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে এখানে প্রকাশ করা হলো-সম্পাদক]

সংঘাত নয়, সম্প্রীতির হাত সম্প্রসারিত করুন

পার্বত্য চট্টগ্রামে অযৌক্তিক হরতাল

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ সংশোধনের। দেরিতে হলেও সরকার সেই সংশোধনী অনুমোদন করে বাস্তুত্যাগী পাহাড়িদের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার পথ সুগম করেছে। এর সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত বাঙালিদের আইনগত অধিকার বা স্বার্থহানির আশঙ্কা না থাকা সত্ত্বেও ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ ধারণা নিয়ে কয়েকটি সংগঠন রোববার থেকে তিন পার্বত্য জেলায় ৭২ ঘণ্টা হরতাল পালন করছে। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি আইনটি সংশোধন করা হয়েছে মূলত পাহাড়িদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাস্তুত্যাগীরা যাতে ফের নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে যেতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে; সেখানে বসবাসরত বাঙালিদের বিতাড়িত করতে নয়। গত ১৫ বছরে বাঙালিরা এমন একটি উদাহরণ দিতে পারবে না, যেখানে কোনো বাঙালিকে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে; এমনকি পাহাড়িদের জমি বা সম্পত্তি কিনতেও তাদের বাধা নেই।

বুধবার, ২২ মে, ২০১৩

পিসিপির প্রতিষ্ঠাসহ দুই যুগ আগের কিছু ঘটনা ও একযুগ আগের একটি লেখা—প্রশান্ত ত্রিপুরা

[এই লেখাটি প্রশান্ত ত্রিপুরার ফেসবুক নোট থেকে নেয়া হয়েছে। লেখাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে এটি এখানে হুবহু প্রকাশ করা হলো--সম্পাদক]
এই নোট মূলত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক নিপীড়নের ইতিহাসকে বৈধতাদানের প্রয়াস’ শিরোনামে প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকীতে একটি ‘প্রতিক্রিয়া’ হিসাবে  ২৯ জুন ২০০১ ছাপানো আমার লেখার অংশবিশেষ। লেখার বাদ দেওয়া বা সংক্ষেপিত অংশগুলো আয়ত বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হয়েছে। নোটের শেষে সমকালীন প্রেক্ষিতে দু’টি কথা যোগ করেছি। 

আমি সিগারেট ধরি ১৯৮৯ সালে। সময়টা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি ক্রান্তিকাল। এই সময় দৈবচক্রে কিছু ঘটনায় আমি জড়িয়ে পড়ি, যার জের ধরে একটা পর্যায়ে আমি সিগারেট খাওয়া ধরি। সেই সময় বা পরবর্তীকালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা আমি মূলত দূর থেকেই অনুসরণ করেছি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিগত দু-তিন দশকের ইতিহাসে আমি নিজে বিশেষ কোন ভূমিকা রাখতে না পারলেও সেই ইতিহাস ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমার জীবনে বিভিন্ন সময় যেসব ছাপ ফেলেছে, সেগুলো আরো অনেকের মত আমি এখনো বয়ে চলছি। যেমন, সিগারেটের প্রতি আসক্তি আমার এখনো কাটে নি। একান্তই ব্যক্তিগত এ ধরনের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গল্প বলার কোন কারণ থাকার কথা ছিল না। কিন্তু [এর] পেছনের গল্পটা বলার তাগিদ ভীষণভাবে বোধ করছি একটি বই হাতে পাওয়ার পর থেকে। [...]

শুক্রবার, ১০ মে, ২০১৩

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে গওহর রিজভীর বক্তব্যে সিএইচটি ২৪ ডটকমের মন্তব্য: ‘চুক্তি বাস্তবায়ন’?!:ফাঁকা বুলি-গর্জে যত তত বর্ষে না

[পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওর রিজভীর ‘বর্তমান সরকারের মেয়াদেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে।’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সিএইচটি২৪ ডটকম একটি মন্তব্য প্রকাশ করে। পাঠকদের বুঝার সুবিধার্থে এই মন্তব্যটি হুবহু এখানে প্রকাশ করা হলো—সম্পাদক]
দৈনিক প্রথম আলোতে (১০মে, ২০১৩) প্রকাশিত রিপোর্ট মতে আমরা জানতে পারলাম রাজধানীর একটি হোটেলে গত বৃহস্পতিবার ইন্ডিজেনাস পিপলস বিষয়ক সংসদীয় ককাস আয়োজিত পার্বত্য চুক্তি নিয়ে নীতিগত পরামর্শ প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে গওহর রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি, এটা নিয়ে হতাশা আছে।

এছাড়া তিনি আরো বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভালো নয়। চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ক্রমশ কমে আসবে।

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

প্রধানমন্ত্রীর রাঙামাটি সফর: জনগণের প্রাপ্তি শূন্য


রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
সিএইচটি নিউজ বাংলা, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩

গত ২৩ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাঙামাটি সফর করে গেলেন। তার এই সফর সম্পর্কে মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ হওয়া স্বাভাবিক। তবে যারা আশা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পর্কে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন, আশার বাণী শোনাবেন, তারা নিঃসন্দেহে হতাশ হবেন। রাঙামাটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাবেশে তিনি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, উন্নয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বক্তব্য দেন। এমনকি ১৯৭০ সালে তার প্রথম রাঙামাটি ভ্রমণেরও স্মৃতিচারণ করেন। কিন্তু তার 'মূল্যবান' বক্তব্যে তিনি কোথাও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পর্কে একটা কথাও বলেননি। অথচ তিনিই গত ১৫ বছর ধরে তার এই অঙ্গীকারের কথা আমাদের শুনিয়ে আসছিলেন।

আসলে তার এই সফর পাবলিক রিলেশনস এক্সারসাইজ ছাড়া আর কিছুই নয়। গত নির্বাচনে জনগণ শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল। ফলে সব পার্বত্য আসনেই (তিনটি) দলটি জয় লাভ করে। কিন্তু গত ৪ বছরেও নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ না করায় ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়। এই হতাশার বহিঃপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর ১৭ নভেম্বরের বান্দরবান সফরের সময়ও দেখা গেছে। সেখানে পাহাড়িদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। সমাবেশকে বড় করতে সমতলের কয়েকটি উপজেলা থেকে লোক নেয়া হয় বলে তখন পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল। ২৩ ফেব্রুয়ারীর রাঙামাটির সমাবেশেও পাহাড়িদের উপস্থিতি ছিল কম। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সমাবেশের যে ফুটেজ দেখানো হয় তাতে পাহাড়ি মুখ খুব কমই দেখা গেছে।

শনিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৩

কল্পনা চাকমা অপরহণ তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে কিছু কথা


শ্রীমানী চাকমা

সম্প্রতি সিআইডি কল্পনা চাকমার অপহরণ বিষয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করলে পাহাড়ি সংগঠনসমূহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিভিন্ন সভা সমাবেশের মাধ্যমে পুনঃতদন্তসহ চিহ্নিত অপহরণকারী লেঃ ফেরদৌস ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছেএর ফলে কল্পনা চাকমার অপহরণ ইস্যুটি আবার সামনে চলে এসেছে

কল্পনা চাকমা অপহৃত হন আজ থেকে সাড়ে ষোল বছর আগে ১৯৯৬ সালের ১১ জুন রাতে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকেকল্পনা চাকমার ভাই লাল বিহারী চাকমা অপহরণকারীদের তিন জন লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস, নুরুল হক ও সালেহ আহমেদকে চিনতে পেরেছিলেনএই ঘটনা দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় তোলে এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল জলিলকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের তৎকালীন অধ্যাপক ড. অনুপম সেন ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার সাখাওয়াত হোসেনএই কমিটি তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী রিপোর্ট পেশ করে বলে জানা গেলেও সরকার তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনিতবে রাঙামাটির আদালত থেকে তদন্ত রিপোর্টটি পাওয়া যাচ্ছে এবং পুলিশ ও সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারাও এই রিপোর্টের সাহায্য নিয়েছেনএই নিবন্ধে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল জলিলের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশন রিপোর্ট (এর পর তদন্ত কমিশন বলে উল্লেখিত হবে) ও সিআইডির চূড়ান্ত রিপোর্ট (এরপর কেবল চূড়ান্ত রিপোর্ট বলে উল্লেখিত হবে) সম্পর্কে আলোচনা করা হবে

শনিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৩

হরেক রকম মেলার নামে অশ্লিল নৃত্যের জলসা ও মদ-জুয়ার আসর: সংক্ষিপ্ত মন্তব্য


সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৫ জানুয়ারী ২০১৩
"রাজপুণ্যা'য় চলছে অশ্লীল নৃত্য ও মদ-জুয়ার আসর" শিরোনামে আজ চট্টগ্রামের দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছেশিরোনামটাই সব কথা বলেছেসুতরাং বিস্তারিত বলার দরকার নেইপাঠকরা সহজে অনুমান করতে পারবেন কিভাবে ও কার প্রশ্রয়ে এ সব হচ্ছেতারপরও মন্তব্যের সুবিধার্থে উক্ত শিরোনামের পর যা লেখা হয়েছে তার থেকে সামান্য উদ্ধৃতি দেয়া আবশ্যক। "আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় বান্দরবান রাজপুণ্যাহ মেলায় চলছে অশ্লীল নৃত্য এবং মদ-জুয়ার আসরপ্রশাসনের নাকের ডগায় স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরের বাসভবনের সামনে রাজার মাঠে রাতদিনে সমানতালে মদ-জুয়ার আসর বসিয়েছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জেএসএস এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।" বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: http://www.suprobhat.com/details.php?reqDate=2013-01-05%2000:00:00&catId=1&subCatId=16&conId=34712

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১২

‘বঙ্গোপসাগর জুড়ে জাগা হাজারো চরে সেটলারদের পুনর্বাসন করা হোক’


সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৪ অক্টোবর ২০১২, বৃহস্পতিবার
পাহাড়িদের অব্যক্ত কান্নাশিরোনামে আবিদ রহমান মেলবোর্ন থেকে আমাদের সময় পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের সেটলারদেরকে বঙ্গোপসাগর জুড়ে জেগে ওঠা চরে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন

গতকাল প্রকাশিত উক্ত নিবন্ধে তিনি লেখেন, ‘পাহাড় হবে পাহাড়ি অধিবাসীদেরবর্তমান পরিস্থিতি বলে, সেখান থেকে বাঙালি সেটেলারদের সরিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেইঅনেকেই বলবেন, সবাই তো দোষী ননঅন্যায় হতে দেখে প্রতিবাদ না করাটাও কিন্তু সমান অপরাধঅন্যকে নির্যাতিত হতে দেখা নিশ্চুপ যারা তারাও সেই অপরাধে অপরাধীহাজারো চর জাগছে বঙ্গোপসাগরজুড়েএসব 'হি-ম্যান'দের সেখানে পুনর্বাসিত করা হোক অনতিবিলম্বে

সোমবার, ১ অক্টোবর, ২০১২

বিবদমান দুই পাহাড়ি সংগঠনকে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমেই পার্বত্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে: প্রথম আলো


সিএইচটি নিউজ বাংলা, ১ অক্টেবর ২০১২, সোমবার
জাতীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো আজ পাহাড়ে শান্তি কি সুদূরপরাহতই থাকবে? পানছড়িতে হত্যাকাণ্ড শিরোনামে তার সম্পাদকীয় কলামে লিখেছে, জেএসএস ও ইউপিডিএফ নেতাদের বুঝতে হবে, দুই সংগঠনের অব্যাহত লড়াইয়ে সেখানে কেবল শান্তিই বিঘ্নিত হচ্ছে না, বাড়তি সেনা ছাউনি ও সেনাসদস্য মোতায়েনকেও যৌক্তিকতা দিচ্ছেসাধারণ পাহাড়িরাও সংঘাত-সংঘর্ষ চায় নাhttp://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-10-01/news/294025

পত্রিকাটি আরো লিখেছে: পানছড়ির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারে সোপর্দ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বসেই দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবেবিবদমান দুই পাহাড়ি সংগঠনকে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমেই পার্বত্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবেতাদের বিভক্তি পাহাড়িদের অবস্থান যেমন দুর্বল করবে, তেমনি শান্তি প্রতিষ্ঠাও হবে সুদূরপরাহত

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

পার্বত্য চট্টগ্রামে উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে মোকাবিলা করতে হবে


রাজনৈতিক ভাষ্য, সিএইচটি নিউজ বাংলা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২, সোমবার

 অবশেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি শহরে সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হলো। রাঙামাটি কলেজে দুই ছাত্রের মধ্যে কথা কাটাকাটির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সাম্প্রদায়িক জিগির তুলে সাধারণ নিরীহ মানুষের উপর আক্রমণ কোন সভ্য মানুষ করতে পারে না। যারা ওই হামলা চালিয়েছে তাদেরকে বর্বর ও সভ্য সমাজের কলংক ছাড়া আর অন্য কিছু দিয়ে আখ্যায়িত করা যায় না।

প্রথম আলো আজ সম্পাদকীয় কলামে লিখেছে, আদিবাসী এক ছাত্রের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে রাঙামাটি কলেজের বাঙালি ছাত্রটি বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে কলেজে হামলা চালালে ছাত্ররা জাতিগত ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে যায়। তবে কলেজের ঘটনাটিকে সংঘর্ষ বলা গেলেও কলেজের বাইরে যা ঘটেছে তা সোজাসাপ্টা জাতিবিদ্বেষী হামলা। পত্রিকাটি আরো লিখেছে: ঘটনার বিবরণ বলছে, বিষয়টি আদিবাসী বনাম বাঙালিদের সংঘর্ষ নয়, বরং একতরফা বাঙালিদের তরফে আদিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনাই সেখানে ঘটেছে। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারল না বা কারও বিরুদ্ধে মামলাও হলো না?

মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট, ২০১২

পাহাড়ি আওয়ামী লীগারদের সুবিধাবাদীতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন

রাজনৈতিক ভাষ্য: সিএইচটি নিউজ বাংলা: ৭ আগষ্ট ২০১২ মঙ্গলবার

 খাগড়াছড়ির চাকমা আওয়ামী লীগ নেতারা গত ৪ আগষ্ট শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খেদ প্রকাশ করে বলেছেন, 'খাগড়াছড়িতে এমপি এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দুজনই ত্রিপুরা সম্প্রদায়েরফলে শিক্ষা ও চাকুরীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা, টিআর-কাবিখা বণ্টনে স্বজনপ্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে চাকমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে' তারা 'চাকমা সম্প্রদায়কে যথাযথ মূল্যায়ন' না করায় সরকারের ওপর ্ষুদ্ধতাদের অভিযোগ, 'খাগড়াছড়িতে দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামী লীগের মতো বড়ো দলের রাজনীতি করার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি আঞ্চলিক দলের রোষানলের শিকার হতে হচ্ছে চাকমাদের' (সুপ্রভাত বাংলাদেশ, ৫ আগষ্ট
সংখ্যা)

সুবিধাবাদী, ধান্দাবাজ ও সুযোগ সন্ধানী ওই 'চাকমা আওয়ামী লীগ নেতাদের' কথা শুনে অনেকের মনে হতে পারে যে, এরা কত স্বজাতিপ্রেমিক; যেন তারা চাকমা জাতিকে উদ্ধারে নেমেছেচাকমা জাতির জন্য তাদের দরদ যেন উপছে পড়ছেচাকমারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তারা যেন মহা ক্ষুদ্ধএটা তারা যেন কোন মতেই সহ্য করতে পারছে না, তাই সংবাদ সম্মেলন করে তারা তাদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছে

নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য চরম ধিকৃত গণশত্রুরাও এভাবে জনগণের বা স্বজাতির নাম ভাঙায়এটা সবার জানা কথাযখন অন্য কোনভাবে এরা সুবিধা করতে পারে না, যখন অন্য কোন উপায়ে নিজের আখের গোছাতে বা আখের রক্ষা করতে পারে না, তখন নিজেদের মুখোশ ও স্বার্থকে আড়াল করার জন্য এরা এই কৌশলের আশ্রয় নেয়, স্বজাতির প্রতি মহা দরদী সেজে বসেসেজন্য স্যামুয়েল জনসন বলেছেন, দেশপ্রেম হলো একজন বদমাশের শেষ আশ্রয়(Patriotism is the last refuge of a scoundrel: Samuel Johnson). স্যামুয়েল জনসন যে কত সত্য কথা বলেছেন তা এই চাকমা আওয়ামী লীগারদের কাণ্ড দেখে বোঝা যায়

সোমবার, ১১ জুন, ২০১২

কল্পনা অপহরণ : গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এখনো একটি 'দুষ্ট ক্ষত' --প্রসিত বি. খীসা

[ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসার এ লেখাটি হিল উইমেন্স ফেডারেশনের অনিয়মিত প্রকাশনা পাহাড়ের রুদ্ধ কণ্ঠের দ্বিতীয় সংখ্যায় (প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০০৬) প্রথম প্রকাশিত হয়। কল্পনা  চাকমা অপহরণের ১৬ বছরপূর্তিতে লেখাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে এখানে প্রকাশ করা হলো-সম্পাদক]



                                                                                   
(১)
পার্বত্য চট্টগ্রামে এটি এমন একটি বহুল আলোচিত ও সর্বজনবিদিত ঘটনা যে, এ প্রসঙ্গে কোন ভূমিকার অবতারণা না করে সরাসরি বলা যায়, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের এক সম্ভাবনাময়ী নেত্রী কল্পনা চাকমা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সংঘটিত হবার প্রাক্কালে অপহৃত হয়েছেরাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সে সময়কার দেশীয় পরিস্থিতিতে দাঙ্গা-হাঙ্গামার মতো কোন অরাজক বা গোলযোগপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়নিসারা দেশে অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় তখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবচে' কঠোর ও জোরদার ছিলো
কল্পনা চাকমা
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সে সময় নিয়োজিত ছিলো সেনা-বিডিআর-পুলিশ-আর্মড পুলিশ-আনসার-ভিডিপি সহ রাষ্ট্রের সকল নিরাপত্তা সংস্থাএ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত খোদ নিরাপত্তা বাহিনীরই কতিপয় সদস্যের দ্বারা কল্পনা অপহরণের চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেসে কারণেই কল্পনা অপহরণ ঘটনাটির গুরুত্ব ও তাপর্য--পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য আরো অনেক অপহরণ-খুন-গুম-হত্যাযজ্ঞ আর নারকীয় ঘটনার চাইতে অত্যধিক

ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট বক্স ছিনতাই, ভোটারদের অস্ত্রের মুখে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান, 'জাল ভোট' দেয়ার চেষ্টা ...সচরাচর দেশে নির্বাচনের ফলাফল নিজের পক্ষে আনার লক্ষ্যে যা দেখা যায়, কল্পনা সে ধরনের অনিয়মতান্ত্রিক কোন তপরতায় লিপ্ত ছিলো নাসাধারণ জনগণের উপর পরিচালিত নিপীড়ন নির্যাতনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে সে হাতে অস্ত্রও তুলে নেয়নিশ্রীলঙ্কা ও প্যালেষ্টাইনে প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর উপর যেভাবে সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালিত হয়ে থাকে, কল্পনা পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন সেনা ইউনিটের উপর সে ধরনের সশস্ত্র হামলাও করেনি
কিন্তু কল্পনা ছিলো রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক প্রতিবাদী কন্ঠভয়-ভীতি, হুমকী, প্রলোভন দেখিয়ে নিপীড়ক সেনা কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠি তাকে কখনই জব্দ করতে সক্ষম হয়নিস্বভাবতই কল্পনা ছিলো কায়েমী স্বার্থবাদী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠির নিকট আতঙ্কের কারণতার সাথে রাজনৈতিক যুক্তি-বিশ্লেষণ ও অন্য কোন কিছুতে কুলিয়ে উঠতে না পেরে, সেনা কায়েমী স্বার্থবাদী চক্রটি এক ঘৃণ্য ন্যাক্কারজনক পন্থা অবলম্বন করেসম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত অবস্থায়, কল্পনা নিজ বাড়ীতে নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় সদস্য দ্বারা অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে আক্রান্ত হয়ঘটনাটি ঘটেছে '৯৬ সালের ১১ জুন মধ্য রাতে, ১:৩০-২:০০ টার সময়েআন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী ১২ জুন, হিসেব করে দেখলে নির্বাচনের মাত্র ৭ ঘন্টা আগে

সোমবার, ৪ জুন, ২০১২

রাঙামাটিতে বোমা, ভূমি কমিশনের শুনানী ও চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সভা প্রসঙ্গে

রাজনৈতিক ভাষ্য, সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৪ জুন ২০১২

গত মে মাসের শেষের দিনগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। প্রথমত, ২০ মে রাঙামাটি শহরে বোমা বিষ্ফোরণ ও এতে ১১ জন ছাত্রের আহত ও পরে একজনের মৃত্যু হওয়ার ঘটনা। দুই, ২৩ ও ২৪ মে ভূমি কমিশনের শুনানী বাতিল ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতির দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় ইউপিডিএফ-সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের ডাকে ৩৬ ঘন্টা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ। তিন, ২৮ মে ঢাকায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠান। নিচে এ ঘটনাগুলোকে নৈর্ব্যক্তিকভাবে বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

রাঙামাটিতে বোমা বিষ্ফোরণ: cui bono?
রাঙামাটিতে বোমা বিষ্ফোরেণর ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ইউপিডিএফ ও জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সন্তু গ্রুপ দৃশ্যত রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হীন উদ্দেশ্যে ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। তবে ইউপিডিএফকে দায়ী করলেও সন্তু গ্রুপের লোকজন মনে প্রাণে বিশ্বাস করে না যে এ ঘটনা ইউপিডিএফ ঘটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাকারীকে এখনো চিহ্নিত ও আটক করতে পারেনি।

চুক্তির পর গত দেড় দশকে সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড জনগণের মধ্যে বহু অসন্তোষ, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক শত্রু সৃষ্টি করেছে। ইউপিডিএফ ছাড়াও জেএসএস-এর সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে জেএসএস (এমএন লারমা)। কয়েক মাস আগে সন্তু গ্রুপ বরকলে ৫ বাঙালিকে অপহণ করলে সেটলারদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখা দেয়। সমঅধিকার সন্তু লারমার আঞ্চলিক পরিষদের অফিস আক্রমণ করে। সন্তু গ্রুপ এরপর কাপ্তাই থেকে আওয়ামী লীগের এক নেতা অনিল তনচঙ্গ্যাকে অপহরণ করে। তাকেও আজ পর্যন্ত ছেড়ে দেয়া হয়নি। এছাড়া রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও রাজস্থলী এলাকায় সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গত কয়েক বছরে শতাধিক লোককে অপহরণ কিংবা খুন করেছে। এই অসন্তুষ্ট ও ক্ষুদ্ধ পক্ষগুলোর মধ্যে থেকে যদি কেউ ওই হামলা ঘটিয়ে থাকে, তাহলে অবাক হওয়ার কোন ব্যাপার আছে?

যখন জানা বা ন্যায়সঙ্গতভাবে ধারণা করা যায় না কারা ঘটনা ঘটিয়েছে তখন ল্যাটিন ভাষায় প্রশ্ন করা হয় cui bono? অর্থা ঘটনা থেকে কে বা কারা লাভবান হচ্ছে? যে বা যারা লাভবান হচ্ছে তারাই ঘটনার জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। এখন পাঠক বিচার করবেন রাঙামাটির বোমা বিষ্ফোরণ ঘটনা থেকে কারা লাভবান হচ্ছে।

সন্তু গ্রুপের উচিত ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করে নির্মোহ ও নিরাবেগ সহকারে ঘটনার বিশ্লেষণ করা ও সেই অনুসারে পদক্ষেপ নেয়া। ইউপিডিএফ যদি হামলা করে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইতো, তাহলে আমার ধারণা তারা সমাবেশের আগে অথা সমাবেশে যোগদানে বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে হামলা চালাতো। সেটাই তাদের দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত ও স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে সমাবেশ শেষে, যখন বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ছাত্ররা কল্যাণপুরে পেট্রোল পাম্পে গাড়ির অপেক্ষা করছিল। আর ঘটনার পর ইউপিডিএফ যে লাভবান হয়নি তা তো সবার কাছে স্পষ্ট।

ঘটনা যারাই ঘটিয়ে থাকুক, লাভের খাতায় কিন্তু সন্তু লারমা ঠিকই নাম উঠাতে সক্ষম হয়েছেন। এ ঘটনা তার জন্য ইংরেজীতে যাকে বলে একেবারে a shot in the arm. তিনি ঘটনাকে ব্যবহার করে ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করার দাবি জোরদার করেন। এমনকি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সভায়ও তিনি এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চুক্তি বাস্তবায়নের চাইতে ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করা বেশী জরুরী বলে মন্তব্য করেন। এক কথায়, ঘটনার পর তিনি যা করেন তাতে মনে হয় তিনি যেন এ ধরনের ঘটনার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছিলেন।