মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট, ২০১২

পাহাড়ি আওয়ামী লীগারদের সুবিধাবাদীতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন

রাজনৈতিক ভাষ্য: সিএইচটি নিউজ বাংলা: ৭ আগষ্ট ২০১২ মঙ্গলবার

 খাগড়াছড়ির চাকমা আওয়ামী লীগ নেতারা গত ৪ আগষ্ট শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খেদ প্রকাশ করে বলেছেন, 'খাগড়াছড়িতে এমপি এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দুজনই ত্রিপুরা সম্প্রদায়েরফলে শিক্ষা ও চাকুরীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা, টিআর-কাবিখা বণ্টনে স্বজনপ্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে চাকমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে' তারা 'চাকমা সম্প্রদায়কে যথাযথ মূল্যায়ন' না করায় সরকারের ওপর ্ষুদ্ধতাদের অভিযোগ, 'খাগড়াছড়িতে দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামী লীগের মতো বড়ো দলের রাজনীতি করার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি আঞ্চলিক দলের রোষানলের শিকার হতে হচ্ছে চাকমাদের' (সুপ্রভাত বাংলাদেশ, ৫ আগষ্ট
সংখ্যা)

সুবিধাবাদী, ধান্দাবাজ ও সুযোগ সন্ধানী ওই 'চাকমা আওয়ামী লীগ নেতাদের' কথা শুনে অনেকের মনে হতে পারে যে, এরা কত স্বজাতিপ্রেমিক; যেন তারা চাকমা জাতিকে উদ্ধারে নেমেছেচাকমা জাতির জন্য তাদের দরদ যেন উপছে পড়ছেচাকমারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তারা যেন মহা ক্ষুদ্ধএটা তারা যেন কোন মতেই সহ্য করতে পারছে না, তাই সংবাদ সম্মেলন করে তারা তাদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছে

নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য চরম ধিকৃত গণশত্রুরাও এভাবে জনগণের বা স্বজাতির নাম ভাঙায়এটা সবার জানা কথাযখন অন্য কোনভাবে এরা সুবিধা করতে পারে না, যখন অন্য কোন উপায়ে নিজের আখের গোছাতে বা আখের রক্ষা করতে পারে না, তখন নিজেদের মুখোশ ও স্বার্থকে আড়াল করার জন্য এরা এই কৌশলের আশ্রয় নেয়, স্বজাতির প্রতি মহা দরদী সেজে বসেসেজন্য স্যামুয়েল জনসন বলেছেন, দেশপ্রেম হলো একজন বদমাশের শেষ আশ্রয়(Patriotism is the last refuge of a scoundrel: Samuel Johnson). স্যামুয়েল জনসন যে কত সত্য কথা বলেছেন তা এই চাকমা আওয়ামী লীগারদের কাণ্ড দেখে বোঝা যায়

চাকমা আওয়ামী লীগারদের কানে ধরে প্রশ্ন করা উচিত -- যখন চাকমারা নির্যাতিত হয়, যখন তাদের ঘরাবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়, যখন তাদের জমিজমা কেড়ে নেয়া হয়, যখন তাদের মা বোনের ইজ্জত হরণ করা হয়, তখন তোমাদের জাতপ্রেম দেশপ্রেম কোথায় যায়? তখন তোমাদের মুখ বন্ধ থাকে কেন? তখন তোমরা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন কর না কেন?
যখন সাজেক-খাগড়াছড়ি জ্বলে, লংগুদুতে হামলা হয়, রামগড়-মানিকছড়িতে গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস করে দেয়া হয়, যখন এর প্রতিবাদে সবাই সোচ্চার হয়, লণ্ডন-আমেরিকা-জাপান-কোরিয়া-ভারতসহ বিশ্বের যেখানে পাহাড়ি সেখানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়, তখন তোমরা কোথায় থাকো, ইঁদুরের মতো কোন গর্তে লুকিয়ে থাকো? তখন তোমাদের জাতপ্রেম কোথায় যায়? গত বছর সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে চাকমাসহ সব সংখ্যালঘু জাতিগুলোকে বাঙালি বানানোর প্রতিবাদে যখন প্রত্যেকটি পাহাড়ি

রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাল, তখন হে স্বজাতি-দরদীগণ, তোমরা কোন অন্ধকার গুহায় লুকিয়েছিলে? তখন তো তোমাদের টিকিটিও দেখা যায়নিআর এখন তোমরা কতই না চাকমা-দরদী, স্বজাতিপ্রেমী হয়ে গেছো! তোমরা কি মনে কর, আমরা তোমাদের ধান্দা বুঝি না? পত্রিকা-ওয়ালারাও তোমাদের ধান্দাবাজি ধরতে পেরেছে; আর তাই একটি বাদে অন্য কোন পত্রিকা তোমাদের খবর ছাপায়নি

চাকমা আওয়ামী লীগাররা জনগণের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের প্রতিবাদ থেকে একশ আলোকবর্ষ দূরে হলেও, নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এরা সব কিছু করতে পারে, নিজের লজ্জা শরম পর্যন্ত বিসর্জন দিতে পারে৪ আগষ্টের সংবাদ সম্মেলন হলো তার প্রমাণ তাদের ভাষায় 'চাকমা সম্প্রদায়কে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না' এর মানেটা কী? এর মানে বোঝে না এমন বোকা কি আছে? মোট কথা হলো, সরকারের ফেলে দেয়া খুদকুড়ো থেকে তারাও ভাগ পেতে চায়এত বছর ধরে আওয়ামী লীগ করেও তারা মুখে লালা ঝরিয়ে অন্যের খুদকুড়ো খাওয়া দর্শন করতে বাধ্য হচ্ছেভাগ পেলে, তাদের পকেটেও মাল পড়লে তারা বেমালুম চুপ হয়ে যাবে; তখন চাকমা সম্প্রদায় ধ্বংসের মুখোমুখি হলেও তাদের মুখ থেকে 'চাকমারা বঞ্চিত হচ্ছে' এই কথা শোনা যাবে না, প্রেস কনফারেন্সে তাদের মুখগুলো আর দেখা যাবে না, যেমন অতীতে দেখা যায়নি

তাদের মূল কথা হলো, খাগড়াছড়ির এমপি ত্রিপুরা হওয়ার পরও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়ার কারণে চাকমারা বঞ্চিত হয়েছে এদের কথার সুর পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক এবং সে জন্য নিন্দনীয়বঞ্চিত হলে তো মারমাদেরও হওয়ার কথা, কিন্তু তাদের কথা তো সংবাদ সম্মেলনে এই আওয়ামী ধান্দাবাজরা বলেনিতাদের সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের মাধ্যমে যারা লাভবান হয়েছে তারা হলো সেনাবাহিনী ও সরকার তথা শাসকগোষ্ঠী, চাকমা সম্প্রদায় নয়কারণ সরকার ও সেনাবাহিনীর নীতি হলো এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়কে, এক জাতির বিরুদ্ধে অন্য জাতিকে লাগিয়ে দিয়ে নিজেদের শাসন শোষণ চিরস্থায়ী করাএই চাকমা আওয়ামী লীগ নেতারা শাসকগোষ্ঠীর এই ফাঁদে পা দিয়ে 'ভাগ কর শাসন কর' নীতির গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে

এমপি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উভয়েই ত্রিপুরা হলেও সাধারণ ত্রিপুরা জনগণের কি কোন উন্নতি হচ্ছে? ত্রিপুরাদের দু'একজনের পকেট ভারী হচ্ছে, তাদের কেউ কেউ আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে তা সত্য, কিন্তু সাধারণ ত্রিপুরাদের বা জনগণের জীবন মানের কোন উন্নতি হয়নি, তাদের অবস্থা এখনো আগের মতো দিন আনতে পানতা ফুরায়একইভাবে, গেল বিএনপি আমলে একজন চাকমা প্রতিমন্ত্রী জলদাস থেকে টাকার কুমীর বনে গেলেও সাধারণ চাকমাদের তথা জনগণের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নিসরকারে এখনো একজন চাকমা মন্ত্রী আছে, তাতে চাকমাদের ভাগ্যের কি পরিবর্তন হয়েছে? খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি এই তিন জেলা পরিষদে আজ পর্যন্ত কেবল মারমারাই চেয়ারম্যান নিয়োগ লাভের সুযোগ পেয়েছেকিন্তু তাই বলে তিন জেলায় সাধারণ মারমাদের ভাগ্যের কি কোন উন্নতি ঘটেছে?

যে সব চাকমা চাকমাদের উন্নতি চায়, যে সব ত্রিপুরা ত্রিপুরাদের উন্নতি চায়, যে সব মারমা মারমাদের উন্নতি চায়, যে সব ম্রো ম্রো জাতির উন্নতি চায় (অন্যান্য জাতিগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য), তাদের উচিত হবে সব নিপীড়িত জাতিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে সংগ্রাম করা, শাসকগোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াকারণ কোন জাতির উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো আগে শোষণ নিপীড়ন থেকে মুক্তিপার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রোসহ সকল জাতিসত্তার জনগণ চরম নিপীড়নের
শিকারএই অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ ছাড়া তাদের সার্বিক বিকাশ ও উন্নতি সম্ভব নয়আজ বাঙালি জাতি পাকিস্তানী শাসন শোষণ থেকে মুক্তি লাভ করেছে বলেই তারা কিছুটা হলেও উন্নতি লাভ করতে পেরেছেতারা যদি এখনো পাঞ্জাবী শাসকদের অধীনে থাকতো, তাহলে নিঃসন্দেহে তারা এতদূর তাদের জাতীয় বিকাশ ঘটাতে পারতো না
সংগ্রামের জন্য দরকার ঐক্যপার্বত্য চট্টগ্রামে সকল নিপীড়িত জাতি ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে প্রত্যেক জাতিসত্তাকে সমান মর্যাদা দিতে হবেএটা ঠিক যে, সব জাতিসত্তা বিকাশের একই স্তরে নয়তারা বিকাশের বিভিন্ন স্তরে রয়েছেকিন্তু সমমর্যাদার জন্য এটা কোন বাধা নয়জাতিগুলোর মধ্যে ঐক্যের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো উগ্র ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদআমরা উগ্রবাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবো, অথচ নিজেরাই উগ্রজাতীয়তাবাদী হবো, তা তো ঠিক নয়উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ যেমন খারাপ, উগ্র ও সংকীর্ণ চাকমা জাতীয়তাবাদও খারাপঅনুরূপভাবে সংকীর্ণ ত্রিপুরা জাতীয়তাবাদ, সংকীর্ণ মারমা জাতীয়তাবাদও ভ্রান্তএই দুই বাদ - উগ্র ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ জাতিগুলোকে বিভক্ত ও সংকীর্ণ গণ্ডীতে আবদ্ধ করে রাখে এবং উন্নতির দিকে নিয়ে যায় না

এটা ঠিক, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমারা অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোর চাইতে কিছুটা এগিয়ে (তবে খুব বেশী নয়)এ জন্য তাদের উচিত পিছিয়ে পড়া জাতিগুলোকে শিক্ষাদীক্ষা ও রাজনৈতিক চেতনা-সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাধ্যমত সহায়তা দেয়াতাদের উন্নতি ও বিকাশের মধ্যেই চাকমাদের স্বার্থ নিহিতকারণ অন্যদের পিছনে ফেলে রেখে তারা নিজেরা কখনো এগিয়ে যেতে পারবে নাকিন্তু সংবাদ সম্মেলনে চাকমা আওয়ামী লীগাররা ঠিক বিপরীত কাজটাই করেছেতাদের দৃষ্টিভঙ্গী এতটাই সংকীর্ণ যে, নিজেদের ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ছাড়া তারা আর কিছুই দেখতে পায় না

এখন তাদের 'বড়ো দলের রাজনীতি করার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি আঞ্চলিক দলের রোষানলের শিকার' হওয়া প্রসঙ্গে কিছু বলা দরকারপ্রথমেই প্রশ্ন করতে হবে, তথাকথিত বড় দল করে পাহাড়ি জনগণের কী লাভ হয়েছে? আওয়ামী লীগ-বিএনপির স্বার্থ ও পাহাড়িদের স্বার্থ কি এক? আওয়ামী লীগ করে দু'একজনের হালুয়া-রুটি জুটেছে, কিন্তু সাধারণ জনগণের কি সামান্যতম লাভ হয়েছে? লাভ তো নয়, বরং তিই হয়েছেএত বছর বড় দলের রাজনীতি করার ফল হলো সাংবিধানিকভাবে 'বাঙালি' হয়ে যাওয়াআওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে পাহাড়িরা বিনিময়ে এটাই পেয়েছে'আদিবাসী-দরদী' আওয়ামী লীগ এখন 'আদিবাসী' শব্দটিকেই মুছে ফেলতে তৎপরএতদিন জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা আদিবাসী আদিবাসী বলে মুখে ফেনা তুলেছিলঅথচ আজ যদি তিন এমপির মধ্যে একজন হলেও স্বতন্ত্র অথবা যে কোন একটি আঞ্চলিক দলের লোক হতো, তাহলে বড় কিছু করা তার পক্ষে সম্ভব না হলেও অন্ততঃ পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে বিশ্ববাসীকে সে জানিয়ে দিতে পারতো পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ পঞ্চদশ সংশোধনী মেনে নেয়নিযে তিন এমপি বীর-যতীন-দীপংকর বাঙালি হওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে, তারা তো কেবল ব্যক্তি নয়, তারা আপনার আমার অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের পক্ষ হয়ে ভোট দিয়েছেকারণ আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমরা তাদেরকে সংসদে পাঠিয়েছিতারা সংসদে জনগণের পক্ষ হয়েই কথা বলেসংসদে তারা যে ভোট দেয় তা  আমাদের নামেই দেয়

দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, আমাদের কী নিজেদের লাগানো গাছে পানি দেয়া উচিত, নাকি অন্যের লাগানো গাছে পানি দেয়া কর্তব্য? এত বছর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গাছের গোড়ায় পানি ঢেলে পাহাড়িরা কী পেয়েছে? আওয়ামী লীগের গাছের ফল কি আমরা খেতে পাচ্ছি? অথচ সবাই যদি নিজেদের গাছগুলো (নিজেদের দল ইউপিডিএফ) পরিচর্যা করতাম, তাহলে এতদিন তার ফল পেতামমনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি তাদের নিজেদের গাছের ফল পাহাড়িদেরকে দেবে নাসেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন চায়, পাহাড়িরা নিজেদের দল না করে আওয়ামী লীগ, বিএনপির মতো তথাকথিত বড় দল করুক অর্থাৎ আওয়ামী লীগ বিএনপির গাছে পানি সিঞ্চন করুকএতে তাদের সুবিধা, কারণ অধিকাংশ শিক্ষিত পাহাড়িরা যদি আওয়ামী লীগ, বিএনপির লুটপাটের রাজনীতি নিয়ে মশগুল থাকে, তখন জনগণের উপর নির্যাতন হলে বা ভূমি বেদখল হলে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কেউ থাকবে না; শাসকগোষ্ঠী নির্বিঘ্নে তার শাসন শোষণ চালিয়ে যেতে পারবেসেনা গোয়েন্দারা জানে, যে সব পাহাড়ি আওয়ামী লীগ-বিএনপি করে তারা কখনোই পাহাড়ি জনগণের ওপর অত্যাচার হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে না

পাহাড়ি আওয়ামী লীগাররা হয়তো তাদের স্বপক্ষে সংগঠন করার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকারের কথা বলবেআমরা অবশ্যই জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং আমরা চাই তারা বেশী বেশী করে নিজেদের মত প্রকাশ করুকতারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হোক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নীতি আদর্শ ও কর্মসূচী বুঝতে ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হোক, যাতে তারা নিজেরাই বিচার বিবেচনা করে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যাতে কেউ তাদেরকে ঠকাতে না পারেকিন্তু যারা গণশত্রু, দালাল, ধান্দাবাজ, যারা জনগণের মাথায় কাঠাল ভেঙে খায়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার অধিকার তাদের নেই জনগণের মধ্যে অনৈক্য ও সাম্প্রদায়িক বিভক্তি সৃষ্টি করার অধিকার তারা পেতে পারে নামত প্রকাশের অধিকার আছে বলে কেউ যদি কোন রোগমুক্তি লাভের জন্য চিকিৎসারত অসুস্থ ব্যক্তিকে সাহস ও শক্তি যোগানোর পরিবর্তে তাকে বলে, 'তোমার রোগ ভালো হবে না, তুমি কাল মরে যাবে, শেষ হয়ে যাবে', তখন কি সেই ব্যক্তির মুখ বন্ধ করে দিয়ে রুম থেকে বের করে দিলে অন্যায় হবে? ঠিক তদ্রুপ, পরাধীন পাহাড়ি জাতির জনগণকে সাহস ও শক্তি না যুগিয়ে, তাদেরকে আন্দোলনে উৎসাহিত না করে, যারা জাতীয় দাসত্বের পক্ষে পরাজয়বাদী ও আত্মসমর্পনবাদী লাইন প্রচার করে এবং বিভ্রান্তি ছড়ায়, তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হলে জনগণের উপকারই হবেকারণ সে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অপব্যবহার করে জাতি ও জনগণের তি করছেমত প্রকাশের স্বাধীনতা আর জনগণকে বিভ্রান্ত করা এক জিনিস নয়

সুতরাং যে সব পাহাড়ি আওয়ামী লীগ-বিএনপি করে তারা শাসকগোষ্ঠীর মতবাদ, দর্শন ও কর্মসূচীই প্রচার করে, যা পাহাড়ি জনগণের স্বার্থের বিরোধীতারা জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেতারা আন্দোলনে জনগণকে কেবল নিরুৎসাহিত করে না, তারা তাদেরকে সুবিধাবাদী ও ধান্দাবাজ হতেও প্ররোচিত করেএজন্য এদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, মতাদর্শিক ও কর্মসূচীগত সংগ্রাম পরিচালনা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। [সমাপ্ত]