বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র
পরিষদের নান্যাচর থানা শাখার উদ্যোগে নান্যাচর গণহত্যার ১৯তম বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায়
পালিত হয়েছে। আজ ১৭ নভেম্বর সকাল ১০টায় শোক র্যালী সহকারে নান্যাচর বাজারের
অস্থায়ী স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। স্মৃতি স্তম্ভে শহীদ
পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন ১নং সাবেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
সুশীল জীবন চাকমা, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন নান্যাচর ইউনিয়ন
পরিষদের চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ খীসা, ইউপিডিএফ, পাহাড়ি ছাত্র
পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষে যথাক্রমে
তাপুমনি চাকমা, বিলাস চাকমা,
চন্দ্রদেব চাকমা ও নিরূপা চাকমা পুষ্পমাল্য
অর্পণ করেন। পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন
করা হয়। এরপর আবারো শোক র্যালী সহকারে নান্যাচর উপজেলার রেস্ট হাউজ
মাঠে এসে এক শোক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নান্যাচর থানা শাখার
সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমার সভাপতিত্বে শোক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের
কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রদেব চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের
কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি নিরূপা চাকমা,
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার
সভাপতি বিলাস চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নান্যাচর উপজেলা শাখার সভাপতি প্রিয়
লাল চাকমা, ১নং সাবেক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান সুশীল জীবন চাকমা, নান্যাচর ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ খীসা ও স্থানীয় মুরুব্বী
নৃপেন চাকমা প্রমুখ। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মার্কিন চাকমা ও উপস্থাপনা করেন
রিপন আলো চাকমা।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৩ সালের ১৭ নভেম্বর নান্যাচর বাজারে আসা পাহাড়িদের ওপর সেনাবাহিনী
ও সেটলাররা যৌথ হামলা চালিয়ে ৩৭ জনের অধিক নিরীহ পাহাড়িকে নির্মমভাবে হত্যা ও অসংখ্য
পাহাড়িকে আহত করেছিল। এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের ১৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত এর
কোন বিচার হয়নি। দোষী ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা হয়নি।
বক্তারা আরো বলেন, নান্যাচর গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ডজনের অধিক গণহত্যা
সংঘটিত করা হয়েছে। সরকার তথা শাসকগোষ্ঠি পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকান্ড চালিয়ে পার্বত্য
চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়িদের নিশ্চহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। শাসকগোষ্ঠির এ চক্রান্ত
আজো শেষ হয়নি। গত ২২-২৩ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি শহরে পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক
হামলা তাই প্রমাণ করে।
বক্তারা অবিলম্বে নান্যাচর হত্যাযজ্ঞ সহ পার্বত্য
চট্টগ্রামে সংগঠিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের
খুঁজে বের করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং পাহাড়িদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা
বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।