সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৬ মে ২০১২
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গারাম দোর-এ
সাপ্তাহিক হাটবার না বসাতে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহান উদ্দিন নির্দেশ
দিয়েছেন। গতকাল ৫ মে শনিবার সকালে গঙ্গারাম দোর-এ স্থানীয় লোকজনের সাথে এক মিটিঙে
তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় বাঘাইছড়ি জোনের টু আই সি মেজর মো: হাফিজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দীপ্তিময় চাকমা ও সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান
অতুলাল চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
রেহান উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া আপনারা কিছুতেই সাপ্তাহিক হাটবার বসাতে
পারবেন না। হাটবার বসাতে হলে ডিসির অনুমোদন লাগবে। এ সময় জ্যোতিলাল কার্বারী
বলেন, ২০০৮ এবং ২০১০ সালে দুই বার আমাদের বাড়িঘর সেটলাররা পুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন আমাদের
কোন সহযোগিতা করেনি। এ ঘটনায় আজো আমরা কোন সুষ্ঠু বিচার পাইনি। আমরা নিরাপত্তার কারণে
বাঘাইহাট বাজার বয়কট করেছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা বাঘাইহাট বাজারে
যাবো না। তাই এখানকার মানুষের প্রয়োজনে আমরা এখানে সাপ্তাহিক হাটবার চালু
করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহান উদ্দিন জ্যোতিলাল কার্বারীর দেয়া যুক্তি ঠিক
আছে বলে মেনে নিলেও তিনি আগামী ১৬ মে'র আগে হাটবার না বসানোর নির্দেশ দেন এবং এদিন
তাঁর কার্যালয়ে এ বিষয়ে মিটিঙ ডেকেছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৯-২০ ফেব্রুয়ারী সাজেকে
সেনা-সেটলারদের যৌথ হামলার পর থেকে স্থানীয় পাহাড়িরা বাঘাইহাট বাজার বয়কট করে আসছে। এর বিকল্প হিসেবে পাহাড়িরা
গঙ্গারাম দোর-এ উজো বাজার নাম দিয়ে একটি অস্থায়ী বাজার স্থাপন করে। এতদিন অস্থায়ীভাবে
বাজার চললেও গত ৩০ এপ্রিল সোমবার থেকে সাপ্তাহে একদিন হাটবার চালু করা হয়।