খাগড়াছড়ি
: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নে পাহাড়ি গ্রামে সেটলার হামলার এক মাসের
অধিক অতিক্রান্ত হলেও সরকার এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কোন উদ্যোগ নেয়নি। ফলে
ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িরা এখনো খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে
গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ক্ষতিগ্রস্ত
এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম
কিশোর ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম, পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমান
ও আওয়ামী লীগের খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম তার সাথে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে
ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
গওহর
রিজভী সকাল পৌনে ১১টায় ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের
নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় তিনি বলেন, আমি খুবই লজ্জিত ও মাথানত হয়ে আপনাদের
কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। আপনাদের ওপর যে অন্যায় করা হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। এর
মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আদর্শ ও বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত
অপরাধীদের দ্রুত বিচারের অওতায় আনা হবে। তিনি সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে
ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভায়
সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন তাইন্দং ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফনিভুষণ চাকমা।
প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন ÿতিগ্রস্থ এলাকার ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক বকুল কান্তি
চাকমা। এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ
জনগণের পÿ
থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর বরাবরে ৯ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মরকলিপি
প্রদান করা হয়।
সভায়
অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব
বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, জুম্ম শরণার্থী কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক অজিত বরণ চাকমা,
লাইফু কুমার পাড়ার মুরুব্বী সুকুমার ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মাসুক করিম, পুলিশ সুপার
শেখ মিজানুর রহমান ও নমিতা চাকমা প্রমুখ।
ত্রাণ
কমিটির আহ্বায়ক বকুল কান্তি চাকমা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার অবস্থা তুলে ধরেন এবং এলাকার নিরাপত্তা
নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশ ও ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি বা ভিডিপি গঠনের দাবি
জানান।
জুম্ম
শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অজিত বরণ চাকমা বলেন, ত্রাণ ও পুণর্বাসনের কার্যক্রম
খুবই দুর্ব। আজ পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নেই। পাহাড়িরা টিকে থাকবে কি থাকবেনা তা নির্ভর
করছে সরকারের উপর।
সুকুমার
ত্রিপুরা বলেন, আমরা নিরাপত্তার সাথে বাচঁতে চাই এবং আমাদের ছেলে মেয়েদের নিরাপত্তার
সাথে পড়াশোনা করাতে চাই।
পুলিশ
সুপার শেখ মিজানুর রহমান বলেন, হামলাকারীদের
১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির
লক্ষ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হবে।
জেলা
প্রশাসক মাসুদ করিম বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সীমাবদ্ধতার কারণে হামলার পরিকল্পনাকারীরা
সুযোগ পেয়েছে। তবলছড়িতে যে পুলিশ ফাড়ি রয়েছে তা প্রশাসনিক থানা উন্নীত করা হবে এবং
তাইন্দং-এ স্থাপন করা হবে।
পাবর্ত্য
চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়া
পরিবারদের বাড়ী নির্মাণ করার জন্য যা ব্যয় হবে তা দেওয়া হবে। তিনি কমিউনিটি পুলিশ গঠনের
জন্য ১ হাজার ডলার দেওয়ারও প্রস্তাব দেন।
এরপর
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরন করতে চাইলে পর্যাপ্ত না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ
গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব
বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা পদত্যাগের হুমকি দিয়ে বলেন, আমি আগেও আপনাদের আশ্বাস দিয়েছি,
আজও দিচ্ছি। তারপরও আপনারা আমার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছেন না। সচিব হিসাবে এ
ব্যথতা আমার। তাই আমার আর এ পদে থাকার কোন যোগ্যতা নেই। আমি ঢাকায় ফিরে পদত্যাগ করবো।
তিনি উপদেষ্টাকে তার জায়গায় অন্য লোক দেখার জন্য অনুরোধ করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িরা তাদের পুনর্বাসন
ও ক্ষতিপূরণে সরকারী নানা প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়নের লিখিত চুক্তি দাবী করে বলেন,
এ চুক্তি করা হলে তাদের ত্রাণ নিতে কোনো আপত্তি নেই। তাদের এ দাবি মানা সম্ভব নয় বলে
জানালে ত্রাণ বিতরণে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এ পর্যায়ে গওহর রিজভী মাইক নিয়ে পাহাড়িদের
বোঝানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সম্মানের কথা
বিবেচনা করে ত্রাণ নিতে অনুরোধ করলে পাহাড়ী নেতৃবৃন্দ সম্মত হন।
------