সিএইচটি নিউজ বাংলা, ১৯ মে ২০১২
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে চাঁদার ভাগ ভাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে বোরকা সন্ত্রাসীদের
দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে বোরকা সন্ত্রাসীদের নেতা অনিল চাকমা ওরফে গোর্কি ওরফে খেলারাম (৪৫) নিহত
হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ২ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ ১৯ মে শনিবার ভোরে লক্ষ্মীছড়ি সদরের জুর্গাছড়ির নিজ বাড়িতে তাকে গুলি করে হত্যা করে বোরকা
সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, লক্ষ্মীছড়ি এলাকার নেতৃত্ব নিয়ে বোরকাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল
বেশ কয়েকদিন ধরে। অনিল চাকমা টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা
করলে এ ঘটনা ঘটে। ইতিপূর্বে বোরকাদের অন্যতম নেতা কিরণ চাকমা টাকা হাতিয়ে নিয়ে
মধ্যপ্রাচ্যে পালিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া আরো বেশ কয়েকজন বোরকাদের অসৎ সংসর্গ ত্যাগ করে স্বাভাবিক
জীবনে ফিরে এসেছিল।
দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায়
থেকে বোরকা সন্ত্রাসীরা এলাকায় খুন,
অপহরণ, চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট
হয়ে এলাকার জনগণ বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং বাজার
বয়কট কর্মসূচি পালন করেছে। এমনকি গত বছর বর্মাছড়িতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কৃতি ছাত্রছাত্রীদের
সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান বানচাল করতে গেলে উত্তেজিত জনতা সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতেই দুই বোরকা
সন্ত্রাসীকে গণধোলাই দিয়েছিল।
এরপর গত ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর লক্ষ্ণীছড়ি
উপজেলা সদরের জুর্গাছড়িতে র্যাবের সাথে বোরকা সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনায় এক বোরকা সন্ত্রাসী
নিহত হয়েছিল। এ সময় র্যাব সদস্যরা তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলা বারুদ উদ্ধার করে। কিন্তু এরপরও প্রশাসন
ও সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করে প্রত্য সহযোগিতা দেয়।
বোরকা সন্ত্রাসীদের আসল হোতা অনিল চাকমা ওরফে
খেলারাম ২০০৩ সালে আর্থিক দুর্নীতি,
বিভিন্ন কেলেঙ্কারী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে
ইউপিডিএফ থেকে বহিষ্কৃত হয়। এরপর সে অস্ত্র চোরাচালনসহ বিভিন্ন অবৈধ পেশায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সের্ যাবের
হাতে ধরা পড়ে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। পরের্ যাব তাদের সোর্স
হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকারের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়। ধারণা করা হয়, র্যাবকে দেয়া এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কাজ না করায়র্ যাব লক্ষ্মীছড়িতে তার ওপর প্রতিরোধমূলক হামলা চালায়। এ হামলায় একজন বোরকা
সদস্য নিহত হলেও অনিল চাকমা অল্পের জন্য বেঁচে যায়।
অনিল চাকমা ২০০৯ সালের জুন-জুলাই মাসের দিকে
লক্ষ্মীছড়ির তৎকালীন জোন কমান্ডার শরীফুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় সি.এইচ.টি.এন.এফ
(চিগাগাং হিল ট্র্যাক্টস ন্যাশন্যাল ফোরাম) গঠন করে, যা পরে স্থানীয় জনগণের
কাছে বোরকা পার্টি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
২০০৯ সালের ২ অক্টোবর অনিল চাকমার নির্দেশে বোরকা সন্ত্রাসীরা
ইউপিডিএফ’র
কেন্দ্রীয় নেতা রুইখই মারমাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর ২০১০ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর নির্মল
চাকমা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীরা। গঠনের পর থেকে তার নেতৃত্বে বোরকা পার্টি লক্ষ্মীছড়ির জুর্গাছড়িতে অবস্থান নিয়ে খুন, অপহরণ,
মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজি করে আসছে।