সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৩
সেপ্টেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবার
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা
উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নে সেটলার কর্তৃক পাহাড়ি গ্রামে হামলার আজ ৩ সেপ্টেম্বর একমাস
পূর্ণ হল। কিন্তু সরকারীভাবে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন না হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা
এখনো খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
হামলার শিকার পাহাড়িদের
অভিযোগ, হামলার পর দিন ৪ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও সরকার
এখনো ক্ষতিগ্রস্তরে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ পর্যন্ত
সরকারী-বেসরকারীভাবে যেসব ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে তা নিতান্তই অপ্রতুল। সরকারীভাবে
বাড়িঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে তাদের পক্ষে বাড়িঘর নির্মাণ করার কোন
সামর্থ্য নেই বলেও তারা জানান।
এদিকে হামলাকারীদের মধ্যে
কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও অনেকে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তারা ‘বিএনপি ক্ষমতায়
এলে তোমাদের দেখে নেবো, ওরা(হামলাকারীরা) জেল থেকে ছাড়া পেলে আবার হামলা করবো, তোমরা
এখানে থাকতে পারবে না’... ইত্যাদি বলে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এক
ব্যক্তি জানান, আমরা যথেষ্ট নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে
পারছি না। ভবিষ্যতে কি হবে তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট কামাল
হোসেন নামে এক মোটর সাইকেল চালককে অপহরণের গুজব ছড়িয়ে সেটলার বাঙালিরা তাইন্দং ইউনিয়নে
পাহাড়িদের গ্রামে হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় পাহাড়িদের
৩৪টি বাড়ি, একটি বৌদ্ধ বিহারের দেশনা ঘর ও একটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া তিন
শতাধিক বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
----