শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৩

তাইন্দংয়ে সেটলার হামলায় আহত সুকুমনি চাকমার ২ মাস বয়সী ছেলে আশামনি চাকমা মারা গেছে

সিএইচটি নিউজ বাংলা, ১০ আগস্ট ২০১৩, শনিবার
মৃত শিশুকে কোলে নিয়ে সুকুমনি চাকমা। পাশে তার স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। 
মাঝখানে নির্বাক দাড়িয়েঁ তার বড় মেয়ে।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দংয়ে সেটলার হামলায় আহত সুকুমনি চাকমার ২ মাস বয়সী ছেলে আশা মনিচাকমা নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ ১০ আগস্ট শনিবার সকাল ১০:৫০ টায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে মারা গেছে।

গত ৩ আগস্ট তাইন্দং ইউনিয়নের বান্দরশিং, বগাপাড়া, সর্বেশ্বর পাড়া, তালুকদার পাড়া সহ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে সেটলার বাঙালি কর্তৃক হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এদিন সুকুমনি চাকমা সহ ১২ জন পাহাড়ি প্রথম সেটলারদের হামলার শিকার হন। সেটলাররা তাকে বেদম মারধর করে। সেটলারদের দা’য়ের কোপে সুকুমনি চাকমার হাত কেটে যায়। তিনি কোন রকমে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান।

সেটলার হামলার ভয়ে সুকুমনি চাকমার স্ত্রী গ্রামের অন্যদের সাথে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়। পরে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুদারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভিজে আশামনি চাকমা নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। বেশ কযেকদিন বিনা চিকিৎসায় থাকার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। গত ৮ আগস্ট খাগড়াছড়ি ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ কমিটির নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে তাকে (আশামনি চাকমাকে) চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়িতে নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

আজ শনিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি থেকে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের একটি টিম আশা মনি চাকমার মরদেহ তাইন্দংয়ের বগা পাড়ায় পৌঁছে দিয়ে এসেছে।

সেটলারদের হামলার ক্ষত শুকাতে না শুকাতে আশামনি চাকমাকে হারিয়ে সুকুমনির পরিবার শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন।
----