সিএইচটি নিউজ বাংলা, ১৫
জুলাই ২০১৩, সোমবার
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি এলাকার ১৮৭ নং গড়গড়িয়া মৌজার হেডম্যান অনিল বিকাশ রোয়াজার বাড়ি থেকে আজ ১৫ জুলাই সোমবার
বিজিবি কর্তৃক আটক হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলা
কমিটির সভাপতি মাদ্রী চাকমা ও দিঘীনালা থানা কমিটির সদস্য চম্পা চাকমা মাটিরাঙ্গা থানা
থেকে মুক্তি পেয়েছেন। রাত সাড়ে ১১টায় তাদের মুক্তি দেয়া হয়।
আগামী ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার
গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম নেতা পঞ্চসেন ত্রিপুরাকে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারের
দাবিতে গোমতি বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ প্রস্তুতির জন্য মাদ্রী চাকমা ও চম্পা চাকমা গতকাল
খাগড়াছড়ি থেকে গোমতিতে সাংগঠনিক কাজে গিয়েছিলেন। সাংগঠনিক কাজের সুবিধার্থে তারা গোমতি
বাজারের পার্শ্ববর্তী অনিল হেডম্যানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সন্ধ্যা ৬টার
দিকে বিজিবি পলাশপুর জোনের নায়েব রফিকের নেতৃত্বে একদল বিজিবি সদস্য এসে তাদেরকে আটক
করে মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে। বিজিবি সদস্যরা অনিল বিকাশ রোয়াজাকেও তাদের সাথে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর বিজিবি’র পলাশপুর
জোন কমান্ডার লে: কর্নেল নুরুজ্জামানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে আটকের
ঘটনাটি অস্বীকার করেন। পরে অবশ্য তিনি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “রাস্তায় টহল
দেয়ার সময় অপরিচিত দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে মাটিরাঙ্গা থানায় নিয়ে গেছে। তারা এখন মাটিরাঙ্গা থানায় রয়েছে। তাদেরকে কিছুক্ষণের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে।”
মাটিরাঙ্গা থানায় যোগাযোগ
করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈন উদ্দিন খান আটককৃতদের ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দিলেও বিজিবি'র চাপে ছেড়ে দিতে অনেক গড়িমসি করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ
সম্পাদক রীনা দেওয়ানের নেতৃত্বে একটি টিম মাটিরাঙ্গা থানায় গেলে রাত সাড়ে ১১টায় তাদেরকে
ছেড়ে দেয়া হয়।
তারা মাটিরাঙ্গা
সহ পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা ও নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক
অযথা নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান।
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের
কেন্দ্রীয় সভাপতি কণিকা দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক রীনা দেওয়ান এ আটকের ঘটনায় তীব্র
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তারা বলেন, বিজিবি
সদস্য কর্তৃক হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেতা-কর্মী আটকের ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী
সমাজের উপর চরম আঘাত এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
------