সিএইচটি নিউজ বাংলা, ১১ জুন ২০১৩, মঙ্গলবার
রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি জেলার কুদুকছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২
জন নারীসহ ৬ জন গ্রামবাসীকে আটক ও মারধর করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে, আটককৃতদের মধ্যে ২ নারী সহ ৩ জনকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের পর ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
জানা যায়, আজ ১১ জুন মঙ্গলবার
দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নান্যাচর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল খালেদ হোসেনের নেতৃত্বে
কুদুকছড়ি ক্যাম্পের একদল সেনা কুদুকছড়ি পূর্বপাড়া(পোড়া পাড়া) ও হাজাছড়ি পশ্চিম পাড়ায়
হানা দিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের মারধর করে ও ধরপাকড় চালায়। সেনারা প্রথমে রাজেন্দ্র লাল
চাকমার বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করে। এরপর সেনারা রাজেন্দ্র লাল চাকমা(৩৫) পিতা- গয়াসুর
চাকমা, গ্রাম-কুদুকছড়ি পূর্ব পাড়া ও তার স্ত্রী স্বপ্না বড়ুয়া, জ্ঞান প্রভা চাকমা(জিতা
মা), স্বামী- উদয় শংকর চাকমা, পাভেল চাকমা(২০) পিতা-শুক্র কুমার চাকমা, গ্রাম-হাজাছড়ি
পশ্চিম পাড়া, অর্জুন কুমার চাকমা (৩২) পিতা-বাঙাল্যা চাকমা, গ্রাম-শুকর ছড়ি ও কালা
বাঁশি চাকমা (১৯) পিতা-পদ্ম রঞ্জন চাকমা, গ্রাম- হাতিমারা-এই ৬ জনকে আটক করে কুদুকছড়ি
সেনাক্যাম্পে নিয়ে যায়। আটককৃতদের মধ্যে কালা বাঁশি চাকমা ও অর্জুন চাকমা কুদুকছড়ি
পূর্ব পাড়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান
ও মেম্বারদের জিম্মায় রাজেন্দ্র লাল চাকমা, তার স্ত্রী স্বপ্না বড়ুয়া ও জ্ঞানপ্রভা
চাকমাকে বিকালে ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে অপর ৩ জনকে এখনো ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছে।
পাহাড়ি ছেলেরা একজন বাঙালি ছেলেকে মারধর করেছে এই মিথ্যা অভিযোগে সেনারা এ ঘটনা ঘটায়।
পাহাড়ি ছেলেরা একজন বাঙালি ছেলেকে মারধর করেছে এই মিথ্যা অভিযোগে সেনারা এ ঘটনা ঘটায়।
ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক
ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে
আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর এ ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন
বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।