সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৩১ ডিসেম্বর
২০১২, সোমবার
পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা ঘটনাবহুল
বছর ছিল ২০১২ সাল। এ বছরেই পার্বত্য চট্টগ্রামের মহান সাধক অর্হৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের
মহাপ্রয়াণ ঘটে।
এ বছর পার্বত্য চুক্তির দেড় দশক পূর্ণ হয়। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস-এর
প্রধান সন্তু লারমা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে
আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও চরমভাবে ব্যর্থ হন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি শহরে
পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে এ বছর। এ ঘটনায় শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি,
চিকিৎসক সহ
অর্ধশতাধিক পাহাড়ি আহত হয়।
এ বছর
পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই স্কুল ছাত্রী সুজাতা চাকমা ও
তুমা চিং মার্মা ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন। এছাড়া বলি মিলা চাকমা নামে এক পাহাড়ি
নারীও হত্যার শিকার হয়েছেন।
জেএসএস সন্তু গ্রুপের প্রধান সন্তু
লারমা এ বছরের মধ্যে ইউপিডিএফ নির্মুলের ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে সন্তু লারমার নির্দেশে তার পরিচালিত সশস্ত্র বাহিনী ইউপিডএফ
কর্মীদের উপর চোরাগোপ্তা হামলা পরিচালনা করে এবং তিনটি জোড়া খুন সংঘটিত করে।
এ বছরের আরেকটি আলেচিত ঘটনার মধ্যে
ছিল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস-এর ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন শেষে ফেরার পথে রাঙামাটি শহরে বোমা
বিস্ফোরণের ঘটনা।
২০১২ সালে আলোচিত বিষয়ের মধ্যে ছিল
ইউপিডিএফ-জেএসএসর মধ্যেকার ঐক্য সমঝোতা নিয়ে। ইন্টারনেটে এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে
স্থান পায়। রাঙামাটি সাম্প্রদায়িক হামলার পরপরই ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু
জেএসএস সন্তু গ্রুপের প্রধান সন্তু লারমা ইউপিডিএফের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে
সন্তু লারমাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা সমালোচনার ঝড় উঠে।
এ বছর ভূমি কমিশনের চেয়াম্যান খাদেমুল
ইসলাম চৌধুরীর একতরফা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির
শুনানী করতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠে। খাগড়াছড়িতে জনতা খাদেমুল ইসলামের গাড়ি লক্ষ্য করে গোবর ও জুতা নিক্ষেপ
করে। ইউপিডিএফ ভূমি কমিশন অফিস ঘেরাও কর্মসূচি সহ তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ফলে
সরকার ভূমি কমিশনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে
বাধ্য হয়।
এছাড়াও এবছর পার্বত্য চট্টগ্রামে আরো
নানা ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। পার্বত্য
চট্টগ্রামের জনগণ বহু আপনজনকে হারিয়েছে, অনেকের
স্ত্রী হয়েছেন স্বামী হারা, অনেক ছেলে মেয়ে হয়েছেন পিতা-মাতা হারা, অনেকে আরো বিভিন্ন ঘটনার শিকার হয়েছেন। বলা যায়, নানা ঘটনার মধ্যে দিয়েই পার্বত্য চট্টগ্রামের
জনগণ ২০১২ সালটি অতিবাহিত করেছে। পার্বত্যবাসীদের জন্য আগামীর পথচলা সুন্দর ও সার্থক হোক এটাই কাম্য। #
.................