সিএইচটি নিউজ বাংলা, ৩ নভেম্বর ২০১২, শনিবার
বান্দরবান : গতকাল ২ নভেম্বর শুক্রবার রাত ১১.০০ ঘটিকার দিকে
মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন বাঙালি লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ফাত্রাঝিরি
গর্জনবনিয়া গ্রামের কমল কান্তি চাকমার পরিবারের উপর হামলা করে। হামলায় কমল কান্তি চাকমাসহ পরিবারের ৪ জন জখম হয়। আহতদের মধ্যে কমলকান্তি চাকমার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ধারালো দা’য়ের কোপে তার মাথায় ও হাতে গুরুতর জখম হয়েছে। আহতদের কক্সবাজার হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়েছে।
জানা যায়, অনেকদিন আগে কমল কান্তি চাকমা কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়া গ্রামের অধিবাসী মোহাম্মদ আলী পিতা তৈইয়ম গোলালের নিকট কিছু জমি বিক্রি করেন। কিন্তু মোহাম্মদ আলী যে পরিমাণ জমি কিনেছে তার তিনগুণ জমি দাবী করেন এবং ঘুষের বিনিময়ে জাল দলিলও তৈরী করেন। এ প্রেক্ষিতে কমল কান্তি চাকমা বান্দরবান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে নামজারি বাতিল, ভূয়া দলিল তৈরীকরণ ও পাহাড় কেটে জবরদখলের অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করেন। পক্ষান্তরে মোহাম্মদ আলীও কমল কান্তি চাকমার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মোহাম্মদ আলী আইন-আদালতের কোন কিছু তোয়াক্কা না করে কমল কান্তি চাকমার জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখল করার লক্ষ্যে ঐদিন রাতে দলবল নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায়
আহত ব্যক্তিরা হলেন- কমল কান্তি চাকমা (৫০) পিতা অংহ্লা থুই চাকমা, চিং চা হ্লা চাকমা (২৫) পিতা কমল কান্তি
চাকমা, জায়মা উ চাকমা (৫৫) স্বামী সুইথু অং চাকমা ও রাজা অং চাকমা (২৫)
পিতা সুইথু অং চাকমা। হামলায় বাঙালিরা কমল কান্তি চাকমা ও প্রতিবেশী আরেকজনের
বাড়ীসহ দু’টি বাড়ী ভাঙচুর করে। স্থানীয় ফাত্রাঝিরি বিজিবি ক্যাম্পের
সদস্যরা হামলাকারী ১২ জন বাঙালিকে গ্রেফতার করেছে। তাদেরকে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে
বলে জানা গেছে।