সিএইচটি নিউজ বাংলা, ১৬ অক্টোবর ২০১২,
মঙ্গলবার
লক্ষ্মীছড়ি এলাকায় সেনা-সন্তু মদদপুষ্ট বোরকা
পার্টির সন্ত্রাসীদের খুন,
অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা
অপকর্মের প্রতিবাদে বর্মাছড়িতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বোরকা পার্টি প্রতিরোধ কমিটি।
আজ ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় বর্মাছড়ি
বাজার মাঠে বোরকা পার্টি প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক সুজেন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে অনষ্ঠিত
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) নেতা রিকো চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি নিকোলাস
চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার নেতা অংকন চাকমা ও
বর্মাছড়ি এলাকার মুরুব্বী মোহনী মোহন চাকমা। সমাবেশে কয়েক শ' লোক স্বতঃস্ফুর্তভাবে
অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে বোরকা সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে
খুন, অপহরণ,
চাঁদাবাজি সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীদের
কারণে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। এ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য বোরকা সন্ত্রাসীদের
বিতাড়িত করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীদের অপকর্মের
সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর বোরকা সন্ত্রাসীরা লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি
ইউনিয়নের উত্তর শুকনাছড়ি গ্রামের সুরেশ কান্তি চাকমার ছেলে ইউপিডিএফ সদস্য কল্প চাকমাকে
(১৯) অপহরণের পর ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীরা লক্ষ্ণীছড়ি
বাজার চৌধুরী রসিক কুমার চাকমা (৪০) ও গুলচোগা চাকমাকে অপহরণ ও বেদম মারধর করে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে
তারা বান্দরকাবা গ্রামের শান্তি কুমার চাকমা (৩৮), কান্দারা চাকমা (৩২), চিকন চান চাকমা (৩২), জাম্বু পেদা চাকমা
(১৮) ও কৃষ্ণ চাকমা চাকমাকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। এছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর
বোরকা সন্ত্রাসীরা উত্তর শুকনাছড়ি গ্রামের কিনাধন চাকমাকে (৪৫) কাঞ্চনপুরের সমুরহাট
বাজার থেকে ফেরার পথে রক্তছড়ি এলাকা থেকে অপহরণ করে ১৫,০০০ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে।
বক্তারা বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে
এলাকায় এলাকায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা অবিলম্বে বোরকা পার্টির সন্ত্রাসী
কর্মকান্ড বন্ধ করা ও খুনী বোরকা সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জোর দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বর্মাছড়ি বাজার প্রদক্ষিণ করে।
উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের
প্রত্য মদদে বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীছড়িতে খুন, অপহরণ,
মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত বোরকা পার্টির
সন্ত্রাসীরা ৩ জনকে খুন, ৩০ জনকে অপহরণ ও কয়েক লক্ষটাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায়
বোরকা সন্ত্রাসীরা এসব অপকর্ম করলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন পদপে নিচ্ছে না। ফলে তাদের অত্যাচার
লক্ষ্ণীছড়ি এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।