পার্বত্য ভূমি কমিশনের বিতর্কিত চেয়ারম্যান
খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে সরকার
কর্তৃক পুন:নিয়োগের গোপন তৎপরতা প্রকাশিত হয়ে পড়ায় ফুঁসে উঠেছে পাহাড়ের জনপদ। ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শহরে অবস্থানরত পার্বত্য অঞ্চলের
ছাত্র-যুব এবং চাকরীজীবীগণ।
আজ শুক্রবার ২০ জুলাই সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস
ক্লাবের সম্মুখে ইউপিডিএফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)-এর আহ্বানে
দু'শতাধিক ছাত্র-যুবক ও বিভিন্ন পেশার তরুণ-তরুণী খাদেমুল ইসলামের
কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পল্টন, মুক্তাঙ্গন ও বায়তুল মোকারম প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেস ক্লাবে এসে শেষ হয়।
গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)-এর কেন্দ্রীয়
সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা এম.এম. পারভেজ লেনিন, ল্যাম্পপোস্টের সম্পাদক আশীষ কোরাইয়া, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি নিরূপা চাকমা ও
যুব ফোরামের নেতা পঞ্চসেন ত্রিপুরা। সভা পরিচালনা করেন অংগ্য মারমা। সমাবেশে সংহতি ও একাত্মতা
প্রকাশ করতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী। এ সময় প্রচুর উৎসুক
দর্শক শ্রোতাও মনযোগ দিয়ে সমাবেশের বক্তব্য শোনেন।
সমাবেশে বক্তারা
সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত বিতর্কিত ও এক অবাঞ্ছিত ব্যক্তিকে
ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যানের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনঃনিয়োগ পাহাড়ি জনগণ বরদাস্ত করবে
না। জনমত উপক্ষা করে ভূমি কমিশনে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিকে পুনঃনিয়োগের ফলে উদ্ভুত যে কোন পরিণতির
জন্য সরকার-প্রশাসনকে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। প্রথাগত ভূমি অধিকার
স্বীকৃতি না দিয়ে পাহাড়ি জনগণকে তাদের বংশপরম্পরার ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে সরকার
একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম সরকারের এ নীল নক্সা বাস্তবায়নের এক বিশ্বস্ত খুঁটি। ইতিপূর্বে খাদেমুল
ইসলাম কর্তৃক অনুষ্ঠিত এক তরফা ও অবৈধ শুনানি চালিয়ে নেয়ার সুবিধার্থে সরকার পরিকল্পিতভাবে
তাকে পুনঃনিয়োগের পদক্ষেপ নিয়েছে।
ল্যাম্পপোস্টের সম্পাদক আশীষ কোরাইয়া তার বক্তব্যে ক্ষমতাসীন সরকারকে বলদের সাথে তুলনা করেন। বলদ থেকে যেমন দুধ দোহন করা বা পাওয়া যায় না তেমনি এ সরকারের কাছেও আবেদন নিবেদন করে কোন অধিকার অর্জন করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, পাহাড় সমতলে নিপীড়িত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে দেশে নতুন সংবিধান কায়েম করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ
বিতর্কিত চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলামকে অপসারণ, ভূমি কমিশনের ২২-২৩
জুলাইয়ের একতরফা শুনানি বাতিল,
ভূমি কমিশনের অগণতান্ত্রিক ধারা সংশোধন, পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি এবং বেদখলকৃত জমি
অবিলম্বে মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম কর্তৃক ভূমি সমস্যা নিষ্পত্তির এক তরফা
শুনানির দিন ধার্য করার প্রতিবাদে ইতিপূর্বে তিন পার্বত্য জেলায় পর পর দু'বার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবরোধ পালিত হয়েছে। সর্বস্তরের জনতা ভূমি
কমিশনের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান
নিযুক্ত হয়ে খাদেমুল ইসলাম পুরো মেয়াদে ছিলেন নিষ্ক্রিয়। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে
তিনি দৃষ্টিকটুভাবে তৎপর হয়ে উঠেছেন, যার ফলে তাকে নিয়ে
জনমনে সন্দেহ আরও বেশি ঘণীভূত হয়েছে। ২০১০ সালে সাজেক-খাগড়াছড়িতে ভূমি বিরোধ নিয়ে সৃষ্ট দাঙ্গাহাঙ্গামার
সময় খাদেমুল ইসলাম পরিবার পরিজন নিয়ে বান্দরবানের নীলগিরি পর্যটনে প্রমোদ বিহারে মগ্ন
ছিলেন, যা সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশিত হয় এবং তা নিয়ে প্রবল নিন্দার ঝড়
উঠেছিল।
