মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১১

‘... তোমরা তোমাদের জাতীয় পরিচয় ভুলে যাও এবং বাঙালি হয়ে যাও’

কালের কণ্ঠ-এর রাজনীতি ম্যাগাজিনে ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সভাপতি প্রসিত খীসা একটি লিখিত সাক্ষাতকার দেন, যা আজ ১৯ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে আমরা তার এই লিখিত সাক্ষাতকারটি হুবহু প্রকাশ করছি: [প্রিয় পাঠক, যদি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাক্ষাতকারের সাথে এর পার্থক্য লক্ষ্য করে থাকেন, তাহলে ধরে নিতে হবে ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে এই পার্থক্য সৃষ্টি বা কিছু বাড়তি যোগ করেছেন৷ সিএইচটি নিউজ বাংলা]

কালে কন্ঠ
রাজনীতি ম্যাগাজিন

১. ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী মঙ্গোলীয় গোষ্ঠীর সকলেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বসবাস করে আসছেযারা সে এলাকার আদিবাসী যেমন ককেশীয় অর্থাত্‍ বাঙালীরা সমতলের আদিবাসী এই অমোঘ সত্যকে মেনে নিয়ে সরকার পাহাড়িদের আদিবাসী আখায়িত না করে সাংবিধানিক স্বীকৃতিতে নানা উপাধি দেওয়ার চেষ্টার কারণ কি বলে মনে করেন?

উত্তর : সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সংখ্যালঘু জাতির জনগণকে শুধু নিজ জাতীয় পরিচয় থেকে বঞ্চিত করেই ক্ষান্ত নয়, 'উপজাতি' 'নৃগোষ্ঠী' ইত্যাদি অসম্মানজনক অভিধায় আখ্যায়িত করে হেয় ও অপমাণিতও করেছে৷ কোন জাতির জনগণকে মানসিকভাবে অধস্তন হীন দুর্বল করে রেখে চিরকাল দাবিয়ে রাখার এটি হচ্ছে উপনিবেশিক শাসকচক্রের নীতি৷ আওয়ামী লীগ সরকার সেই ঘৃণ্য মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে

২. পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত ভূমি অধিকারে দাবি এবং সরকারের ভূমি কমিশনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন৷

উত্তর : এটা মনে রাখতে হবে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি মালিকানা দেশের অন্য এলাকা থেকে ভিন্ন৷ প্রথাগত ভূমি অধিকার স্বীকৃত না হলে পাহাড়ি জনগণ বাস্তুভিটাহারা হবেন সরকারের ভূমি কমিশন দেশের প্রচলিত আইনে ভূমি সমস্যা সমাধান করবে বলে তাদের বক্তব্য বিবৃতির মাধ্যমে জানা গেছে তাহলে এতে সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করবে৷ এমনিতে ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং তার ওপর অর্পিত ক্ষমতা নিয়ে তো বিতর্ক অসন্তোষ আছেই

৩. আপনাদের পূর্ণস্বাত্তশাসনের দাবির ক্ষেত্রে দেশের অধিকাংশ জনগণের একটি ধারণা রয়েছে এর ফলে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি আলাদা রাষ্ট্র পরিণত হয়ে যাবে৷ প্রকৃত অর্থে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন বলতে আপনারা কি বুঝাতে চাচ্ছেন?

উত্তর : পূর্ণস্বায়ত্তশাসন নিয়ে এ রকম ধারণা কারোর থেকে থাকলে বলতে হবে যে, সেটি অযথা কাল্পনিক ভীতি৷ ক্ষমতাসীন শাসকচক্রই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে৷ পূর্ণস্বায়ত্তশাসন বলতে পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে অর্থ, প্রতিরা, বৈদেশিক সম্পর্ক ও ভারী শিল্প-- এ চারটি বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে এবং বাকী সমস্ত বিষয় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক ইউনিটের নিকট হস্তান্তর করতে হবে

পাশের দেশ ভারত ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু জাতির জনগণকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়েছে৷ এর ফলে সে সব দেশে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি দুর্বল না হয়ে বরং জোরদারই হয়েছে

৪. ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চুক্তি করেছিলেন৷ চুক্তি উদ্যোক্তা ও বাস্ততবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অবস্থান নীতিকে কিভাবে দেখছেন?

উত্তর : আওয়ামী লীগ সরকার পুরোপুরি প্রতারণা করেছে৷ নবম সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে 'পার্বত্য চুক্তি' সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল৷ অথচ পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী পাসের ফলে চুক্তি ইসু্যটিকে পুরোপুরি ঢামাচাপা দেয়া হয়েছে৷ ইতিপূর্বে চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট আঞ্চলিক পরিষদকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে৷ অপরদিকে, জেএসএস নেতারা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করবেন বলে হাঁকডাক করলেও, আজ পর্যন্ত তাদের কোন কর্মসূচী নেই৷ ফলে পার্বত্য চুক্তির ভবিষ্যত অন্ধকার

কালের কন্ঠ রাজনীতি ম্যাগাজিন
mukulmolli@gmail.com