সিএইচটি নিউজ বাংলা, ২৯
সেপ্টেম্বর ২০১৩, রবিবার
ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক
ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর একনিষ্ট কর্মী ও সংগঠক শুক্ল বিকাশ চাকমা দূরারোগ্য ব্ল্যাড ক্যান্সারে
আক্রান্ত হয়ে গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় খাগড়াছড়িতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৩২ বছর। তিনি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ
শুকনাছড়ি গ্রামের আনন্দ কুমার চাকমার ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, পিতা-মাতা,
আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য শুভাকাঙ্খী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আজ রবিবার দুপুরে তাঁর
অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্ল বিকাশ চাকমা ছাত্রাবস্থায়
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাথে যুক্ত হন। পরে তিনি ইউপিডিএফ-এ যোগদান করেন।
তিনি প্রথমে পাহাড়ি ছাত্র
পরিষদের বর্মাছড়ি ইউনিয়নের শুকনাছড়ি আঞ্চলিক শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০০৪
- ২০০৫ সালে তিনি বর্মাছড়ি ইউনিয়ন শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি লক্ষ্মীড়ি
থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের শেষের দিকে তিনি ইউপিডিএফ-এ যোগ
দেন।
তিনি ইউপিডিএফ-এর লক্ষ্মীছড়ি
ইউনিটে দায়িত্ব পালন কালে সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরপর তাকে
পানছড়ি উপজেলা ইউনিটের আওতাধীন পাগজ্যাছড়ি এলাকায় দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কৃষি গবেষণা এলাকায় বদলী করা হয়। সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের
সময় তিনি গত বছর শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোগ নির্ণয়ের পর তার শরীরে দূরারোগ্য
ব্ল্যাড ক্যান্সারের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর তিনি প্রথমে চট্টগ্রামে ও পরে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তার শারিরীক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে
খাগড়াছড়ি নিয়ে আসা হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শুক্ল চাকমা বরাবরই একনিষ্টভাবে
তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন। ইউপিডিএফ'র সাথে যুক্ত থাকার কারণে লক্ষ্মীছড়িতে
সেনা মদদপুষ্ট বোরকা সন্ত্রাসীরা প্রতিহিংসাবশতঃ তার পিতা আনন্দ কুমার চাকমাকে অপহরণ
করে। পরে এলাকাবাসীর ব্যাপক প্রতিবাদ ও নিন্দার মুখে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য
হয়।
-----